বিল দখল নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ: প্রাণ গেল বিএনপি সাধারণ সম্পাদকের
- আপডেট সময় : ০৪:০৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
- / 436
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বিলের মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের মারধরে জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল (৫০) নামে এক স্থানীয় বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২২ জুন, ২০২৫) বিকালে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি ঘটে সকালে উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের সোনাকানিয়া সরকারপাড়া গ্রামে। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের যুবদল নেতা রেজাউল করিমসহ তিনজন আহত হয়ে ওই হাসপাতালেই ভর্তি আছেন।
কী ঘটেছিল?
নিহত জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের সোনাকানিয়া সরকারপাড়ার মনসের সরকারের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গ্রামের একটি বিলের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে তার সঙ্গে আত্মীয় মোফাজ্জল হোসেন সরকারের ছেলে ও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিমসহ অন্যদের বিরোধ চলছিল।
এর জেরে রবিবার সকালে দু’পক্ষের মধ্যে লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে ব্যাপক মারামারি হয়। এতে জুয়েল এবং প্রতিপক্ষের রেজাউল করিম, তার ভাই তালহা ও বোন ফেন্সি আহত হন। আহতরা বগুড়া শজিমেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নেন।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিতর্ক
জুয়েলের স্বজনরা দাবি করেছেন, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল প্রতিপক্ষের নিক্ষেপ করা ইটে বুক ও পায়ে আঘাত পান। এর ফলেই বিকালে তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তবে প্রতিপক্ষ মহিষাবান ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিমের স্ত্রী সোনিয়া এই দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, জুয়েল পক্ষকে কেউ মারধর করেনি। তার মতে, জুয়েল হৃদরোগী ছিলেন এবং কয়েক দিন আগে তার স্ট্রোকও হয়েছিল, তাই হৃদরোগেই তার মৃত্যু হয়েছে। উল্টো তিনি অভিযোগ করেন, জুয়েল পক্ষের ২০ থেকে ২৫ জন লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে তাদের ওপর হামলা করেছে, যাতে তার স্বামী, দেবর ও ননদ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত
সন্ধ্যায় বগুড়ার গাবতলী থানার ওসি সেরাজুল হক এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসিফ ইকবাল জানান, মৃত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম জুয়েলের লাশ তার বাড়িতে আনা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তাদের মনে হচ্ছে, তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তার একজন আত্মীয় চিকিৎসক আছেন, তিনি পরীক্ষা করার পর যে সিদ্ধান্ত দিবেন, সেই অনুযায়ী মামলা হবে।





















