শিক্ষা উপদেষ্টার ফরিদপুর সফর: বঞ্চিত আন্দোলনকারীরা
- আপডেট সময় : ০৯:২৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
- / 403
ফরিদপুরে সফরে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতার তোপের মুখে পড়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার। এই সফর ঘিরে শিক্ষা উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন আন্দোলনের ফরিদপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব সোহেল রানা।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ১৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি শিক্ষা উপদেষ্টা এবং ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
“আন্দোলনের প্রতিনিধি কেউ দাওয়াত পায়নি”
সোহেল রানা তার স্ট্যাটাসে লেখেন, “ফরিদপুরে মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা এসেছিলেন। ডিসি অফিসে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে তার মিটিং হয়েছে। কিন্তু যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি উপদেষ্টা হয়েছেন, সেই প্ল্যাটফর্মের কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। তাহলে তিনি কাদের সঙ্গে মিটিং করলেন? এই নাকি দেশের অবস্থা?”
স্ট্যাটাসের এক পর্যায়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “না করলেন ১০ জন আহতের সঙ্গে সাক্ষাৎ, না করলেন একজন নিহতের কবর জিয়ারত! বাহ রে বিপ্লব, বাহ! জবাবটা দয়া করে ফরিদপুরের মাননীয় জেলা প্রশাসক দেবেন।”
সফরসূচিতে আন্দোলন-সংক্রান্ত কোনো সময়সূচি নেই
শিক্ষা উপদেষ্টার একান্ত সচিব আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, শিক্ষা উপদেষ্টা ফরিদপুর সদরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মুসলিম মিশন ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। তিনি সার্কিট হাউসে অবস্থান শেষে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন। পরে সন্ধ্যা ৬টায় তিনি ফরিদপুর ত্যাগ করেন।
তবে এই সফরসূচিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সাতজনের কবর জিয়ারত, স্বজনদের খোঁজ নেওয়া কিংবা আহত ১৪৭ জনের কারোর সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো সময় নির্ধারিত ছিল না। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই মূলত সোহেল রানা তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
“উপেক্ষা দুঃখজনক ও হাস্যকর” — সোহেল রানা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সোহেল রানা বলেন, “একজন উপদেষ্টা আসতেই পারেন, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু ফরিদপুরে এসে তিনি আমাদের আন্দোলনকে উপেক্ষা করবেন— এটা কেমন কথা? শিক্ষা উপদেষ্টা তো আমাদেরই উপদেষ্টা। তিনি আসবেন আর আমরা জানব না— বিষয়টা হাস্যকর।”
তিনি আরও বলেন, “তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, কিন্তু একজন শহীদের কবর পর্যন্ত জিয়ারত করেননি, পরিবারের খোঁজ নেননি। এমনকি আহতদের সঙ্গেও কোনো সাক্ষাৎ করেননি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।”
জেলা প্রশাসককে পাওয়া যায়নি
এই বিষয়ে জানতে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ তিনি ফোন রিসিভ করেননি।











