সিনেমাকেও হার মানালেন ফরিদপুরের ফরিদ খান:পুলিশের ও গণমাধ্যমের ধোঁয়াসা দূর
- আপডেট সময় : ১২:১৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫
- / 1283
ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের কৃষক ফরিদ খানকে নিয়ে সম্প্রতি অপহরণ-সংশ্লিষ্ট একটি খবর দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। ১ মে নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, তিনি জমি সংক্রান্ত মামলার কারণে প্রতিপক্ষের হাতে অপহৃত হয়েছেন। এমনকি মুক্তিপণের দাবিতে ফোন কলও আসে বলে দাবি করা হয়। সময় টিভি ও দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ এ নিয়ে সংবাদও প্রচার করে।
আত্মগোপনই ছিল ‘অপহরণ নাটক’-এর আসল চিত্র
তবে বাস্তবে চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, ফরিদ খান আদতে অপহৃত হননি। বরং তিনি নিজের পরিকল্পনায় আত্মগোপনে চলে যান। একাধিক জেলা ও চরাঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়ে নাটকীয় কায়দায় তিনি নিজেকে লুকিয়ে রাখেন।
পুলিশি অভিযানে উদ্ধার, প্রযুক্তির সহায়তায় চিহ্নিত
নিখোঁজ ডায়েরির পর কোতোয়ালি থানা পুলিশ একাধিক দল গঠন করে অনুসন্ধানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, ফরিদ খান শিবচর (মাদারীপুর), মুন্সীগঞ্জ ও ফরিদপুরের সদরপুর-চরভদ্রাসনের চরাঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। উদ্ধার অভিযানের খবর পেয়ে গতকাল তিনি স্থান পরিবর্তন করেন এবং গিয়ে ওঠেন তার উকিলের চেম্বারে।
উকিলের চেম্বার থেকে গ্রেপ্তার
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, উকিল সাইদুল খান মন্টু ও কল্যাণ মিত্রের চেম্বার থেকে ফরিদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আত্মগোপনের পেছনে ব্যক্তিগত আর্থিক টানাপোড়েন
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ফরিদ খান জানান, তিনি তার এক বোনকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন, যা অন্যের কাছ থেকে ধার করে জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু সেই বোন টাকা ফেরত দিচ্ছেন না, ফসলও দিচ্ছেন না। ফলে পাওনাদারদের চাপের মুখে পড়ে তিনি ‘অপহরণের নাটক’ সাজান, যেন মুক্তিপণের টাকা পেলে নিজের দেনা শোধ করতে পারেন।
পরিবার কিছুই জানতো না, ওসি জানালেন সন্দেহ
এই নাটকীয়তার বিষয়ে ফরিদ খানের পরিবারও কিছু জানতো না বলে জানিয়েছেন পুলিশ। ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, “তার বক্তব্য সন্দেহজনক। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, এর সত্যতা শিগগিরই বেরিয়ে আসবে।





















