দেশে জাল নোটের বন্যা: ‘এ-গ্রেড’ টাকা বিক্রির বিজ্ঞাপন!
- আপডেট সময় : ১২:২০:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
- / 322
দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে ২ লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ জাল নোট বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর ‘পতিত আওয়ামী লীগ’ এবং পার্শ্ববর্তী দেশের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার দিকে। তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি চক্র চোর পথে এই বিপুল পরিমাণ জাল মুদ্রা দেশে অনুপ্রবেশ করাচ্ছে।
কাতারভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান তার ফেসবুক পোস্টে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই অপতৎপরতা রুখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ও আ.লীগ নেতাদের যোগসাজশ
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, এই বিশাল অঙ্কের জাল নোট তৈরির নেপথ্যে কাজ করছে একটি সুসংগঠিত চক্র।
চক্রান্ত: পার্শ্ববর্তী দেশের নিজস্ব মুদ্রা ছাপানোর ব্যবস্থায় নকল মুদ্রা তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। দেশটির গোয়েন্দারা চোরাপথে এই জাল নোট বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে।
নেতৃত্ব: এই চক্রে গোয়েন্দাদের সঙ্গে ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগের কিছু নেতা সরাসরি জড়িত। তারা ডিলার থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত একটি নতুন নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে।
সন্দেহের ভিত্তি: জাল মুদ্রায় ব্যবহৃত কাগজ এবং বাংলাদেশের আসল নোটের কাগজ একই হওয়ায় সন্দেহ আরও বেড়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশের টাঁকশালে ব্যবহৃত মেশিন ও যন্ত্রাংশ ওই পার্শ্ববর্তী দেশেই তৈরি।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই চক্রে টাঁকশালে টাকা তৈরির সাবেক ডিজাইনারসহ আওয়ামী আদর্শের কারিগররা জড়িত থাকতে পারে, যারা গোয়েন্দাদের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন ধরে এই জাল নোট ছাপিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্বেগ ও কর্মকর্তার মন্তব্য
এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মুখপাত্রের বক্তব্য: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার জাল নোট দেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগ সত্য হলে এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে এর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে এবং সাধারণ মানুষকেও অনেক সচেতন হতে হবে।”
কর্মকর্তার মন্তব্য: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, বিগত ১৫ বছরে টাঁকশালে নিয়োগ পাওয়া বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীই আওয়ামী আদর্শের অনুসারী ছিলেন। তিনি টাকা ডিজাইনের কারিগর, যারা সদ্য অবসরে গেছেন, তাদের নজরদারির আওতায় আনার পরামর্শ দেন।
প্রকাশ্য জাল নোটের কারবার: সামাজিক মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ
জাল নোট চক্রটি প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ক্রেতা আকৃষ্ট করছে।
বিজ্ঞাপন কৌশল: ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ‘সিক্রেট গ্রুপ’ তৈরি করে জাল নোট বিক্রির বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। তারা ১ লাখ টাকার জাল নোট মাত্র ১০ থেকে ১৮ হাজার টাকায় বিক্রির অফার দিচ্ছে।
মিথ্যা প্রতিশ্রুতি: চক্রটি ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য ‘মানি ব্যাক গ্যারান্টি’ বা ‘মানের নিশ্চয়তা’র মতো মিথ্যা প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে।
সাঙ্কেতিক ভাষা: জাল নোটকে বৈধ পণ্য হিসাবে প্রচারের জন্য ‘নতুন মডেলের রঙিন প্রিন্ট’, ‘পুজোর বাজারের জন্য স্পেশাল অফার’ এবং ‘উচ্চমানের রেপ্লিকা’ মতো সাঙ্কেতিক ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে।
একটি ফেসবুক গ্রুপে ১ লাখ টাকার জাল নোট ১৮ হাজার টাকায় বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। বিক্রেতা দাবি করেছে, তাদের কাছে ‘এ’ গ্রেডের, ওয়াটারপ্রুফ জলছাপ সুতা তৈরি নোট রয়েছে, যা মেশিন ছাড়া কারও পক্ষে ধরা অসম্ভব। তারা অগ্রিম টাকা নিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে জাল নোট সরবরাহ করছে।





















