ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপহরণ মামলায় ৭ বছরের শিশু গ্রেপ্তার!

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:১১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 314

চট্টগ্রামে অপহরণের অভিযোগে মাত্র ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে তার মায়ের সঙ্গে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর ঘটনায় আদালত ও নগর পুলিশের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) রয়েছে। শিশু আইন লঙ্ঘন করে ৯ বছরের কম বয়সী শিশুকে আসামি করায় বিষয়টি নিয়ে আইনি মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর শিশুটিকে এবং তার মাকে গত শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) আদালতে পাঠানো হয়। আদালত শিশুটির মাকে কারাগারে এবং শিশুটিকে টঙ্গীস্থ শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলা ও গ্রেপ্তারের বিবরণ

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে ৪ বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার মধ্য দিয়ে।

নিখোঁজের ঘটনা: গত ১৩ এপ্রিল আনোয়ারা বেগম তাঁর অসুস্থ বড় সন্তানের চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে যান। সঙ্গে ছিল তাঁর ছোট সন্তান মো. রামিম (৪)। হাসপাতাল থেকে রামিম নিখোঁজ হয়।

অপহরণ মামলা: অনেক খোঁজাখুঁজির পর রামিমকে না পেয়ে ঘটনার ৭ মাস পর গত শুক্রবার আনোয়ারা বেগম পাঁচলাইশ থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় ৭ বছর বয়সী শিশুটি এবং তার ৩০ বছর বয়সী মাকে।

অভিযোগ: বাদী দাবি করেন, ৭ বছর বয়সী ওই শিশুটি ও তার মা খেলার কথা বলে রামিমকে হাসপাতালের বারান্দা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যান।

গ্রেপ্তার: মামলা হওয়ার পর ওই দিনই পাঁচলাইশ থানার এসআই এনামুল হক ষোলশহর এলাকা থেকে ৭ বছরের শিশু ও তার মাকে গ্রেপ্তার করে। তবে পুলিশ নিখোঁজ শিশু রামিমকে উদ্ধার করতে পারেনি।

আইনি জটিলতা ও আদালতে চাঞ্চল্য

গ্রেপ্তারকৃত ৭ বছর বয়সী শিশুটিকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর ঘটনায় আইনি মহলে বিতর্ক তৈরি হয়।

শিশু আইন লঙ্ঘন: আদালত সূত্রে জানা যায়, শিশু আইন অনুযায়ী ৯ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে আসামি করার সুযোগ নেই।

জামিনের আবেদন: বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রোববার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতে শিশুটির জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করেন।

পুলিশের বক্তব্য: এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (পিআর) আমিনুর রশিদ বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। আমরা যাচাই–বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

অপহরণ মামলায় ৭ বছরের শিশু গ্রেপ্তার!

আপডেট সময় : ১২:১১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামে অপহরণের অভিযোগে মাত্র ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে তার মায়ের সঙ্গে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর ঘটনায় আদালত ও নগর পুলিশের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) রয়েছে। শিশু আইন লঙ্ঘন করে ৯ বছরের কম বয়সী শিশুকে আসামি করায় বিষয়টি নিয়ে আইনি মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর শিশুটিকে এবং তার মাকে গত শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) আদালতে পাঠানো হয়। আদালত শিশুটির মাকে কারাগারে এবং শিশুটিকে টঙ্গীস্থ শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলা ও গ্রেপ্তারের বিবরণ

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে ৪ বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার মধ্য দিয়ে।

নিখোঁজের ঘটনা: গত ১৩ এপ্রিল আনোয়ারা বেগম তাঁর অসুস্থ বড় সন্তানের চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে যান। সঙ্গে ছিল তাঁর ছোট সন্তান মো. রামিম (৪)। হাসপাতাল থেকে রামিম নিখোঁজ হয়।

অপহরণ মামলা: অনেক খোঁজাখুঁজির পর রামিমকে না পেয়ে ঘটনার ৭ মাস পর গত শুক্রবার আনোয়ারা বেগম পাঁচলাইশ থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় ৭ বছর বয়সী শিশুটি এবং তার ৩০ বছর বয়সী মাকে।

অভিযোগ: বাদী দাবি করেন, ৭ বছর বয়সী ওই শিশুটি ও তার মা খেলার কথা বলে রামিমকে হাসপাতালের বারান্দা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যান।

গ্রেপ্তার: মামলা হওয়ার পর ওই দিনই পাঁচলাইশ থানার এসআই এনামুল হক ষোলশহর এলাকা থেকে ৭ বছরের শিশু ও তার মাকে গ্রেপ্তার করে। তবে পুলিশ নিখোঁজ শিশু রামিমকে উদ্ধার করতে পারেনি।

আইনি জটিলতা ও আদালতে চাঞ্চল্য

গ্রেপ্তারকৃত ৭ বছর বয়সী শিশুটিকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর ঘটনায় আইনি মহলে বিতর্ক তৈরি হয়।

শিশু আইন লঙ্ঘন: আদালত সূত্রে জানা যায়, শিশু আইন অনুযায়ী ৯ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে আসামি করার সুযোগ নেই।

জামিনের আবেদন: বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রোববার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতে শিশুটির জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করেন।

পুলিশের বক্তব্য: এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (পিআর) আমিনুর রশিদ বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। আমরা যাচাই–বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”