ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে রাজনীতির ভেলকি: ‘স্মার্ট প্লেয়ার’ অবশেষে বহিষ্কৃত

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:১৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫
  • / 1900

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি কামরুজ্জামান কদরকে সম্প্রতি ‘জিয়া মঞ্চ’ ফরিদপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ৮ মে রাতে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জিয়া মঞ্চের একটি অফিসিয়াল চিঠি ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, ২১ এপ্রিল কেন্দ্রীয় জিয়া মঞ্চের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. জামাল হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ফরিদপুর জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়, যেখানে কদরকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদে ছিলেন কদর

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। পরে রেজুলেশনের মাধ্যমে কামরুজ্জামান কদর ও হারিচুর রহমান সোহানকে সহসভাপতি করা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, সহসভাপতি সোহান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

কমিটির সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন জানান, “কদর এখনও পদত্যাগ করেননি, তাই তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি হিসেবে বহাল রয়েছেন।”

কদরের স্বীকারোক্তি: আমি বিএনপির লোক

বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কামরুজ্জামান কদর নিজেই বলেন, “আমি স্বেচ্ছাসেবক লীগের মূল কমিটিতে ছিলাম না, শুধু পরিচয় ব্যবহার করতাম। আমি ছোটকাল থেকেই ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে চলতে হতো।”

বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জিয়া মঞ্চের

জিয়া মঞ্চ ফরিদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইব্রাহিম আলী জানান, বিষয়টি সংগঠনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে কদরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় জিয়া মঞ্চের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জামাল হোসেন বলেন, “জিয়া মঞ্চ এখন সারা দেশে কমিটি গঠন করছে। ভিন্ন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সত্যতা পাওয়ার পরই কেন্দ্রীয়ভাবে কদরকে বহিষ্কার করা হয়।”

সারাংশ:
একইসঙ্গে দুই দলের পদে থাকা নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ফরিদপুরের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কামরুজ্জামান কদর। শেষ পর্যন্ত জিয়া মঞ্চ থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি। তার স্বীকারোক্তি এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের জটিলতা ফরিদপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ফরিদপুরে রাজনীতির ভেলকি: ‘স্মার্ট প্লেয়ার’ অবশেষে বহিষ্কৃত

আপডেট সময় : ১২:১৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি কামরুজ্জামান কদরকে সম্প্রতি ‘জিয়া মঞ্চ’ ফরিদপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ৮ মে রাতে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জিয়া মঞ্চের একটি অফিসিয়াল চিঠি ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, ২১ এপ্রিল কেন্দ্রীয় জিয়া মঞ্চের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. জামাল হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ফরিদপুর জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়, যেখানে কদরকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদে ছিলেন কদর

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। পরে রেজুলেশনের মাধ্যমে কামরুজ্জামান কদর ও হারিচুর রহমান সোহানকে সহসভাপতি করা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, সহসভাপতি সোহান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

কমিটির সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন জানান, “কদর এখনও পদত্যাগ করেননি, তাই তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি হিসেবে বহাল রয়েছেন।”

কদরের স্বীকারোক্তি: আমি বিএনপির লোক

বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কামরুজ্জামান কদর নিজেই বলেন, “আমি স্বেচ্ছাসেবক লীগের মূল কমিটিতে ছিলাম না, শুধু পরিচয় ব্যবহার করতাম। আমি ছোটকাল থেকেই ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে চলতে হতো।”

বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জিয়া মঞ্চের

জিয়া মঞ্চ ফরিদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইব্রাহিম আলী জানান, বিষয়টি সংগঠনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে কদরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় জিয়া মঞ্চের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জামাল হোসেন বলেন, “জিয়া মঞ্চ এখন সারা দেশে কমিটি গঠন করছে। ভিন্ন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সত্যতা পাওয়ার পরই কেন্দ্রীয়ভাবে কদরকে বহিষ্কার করা হয়।”

সারাংশ:
একইসঙ্গে দুই দলের পদে থাকা নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ফরিদপুরের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কামরুজ্জামান কদর। শেষ পর্যন্ত জিয়া মঞ্চ থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি। তার স্বীকারোক্তি এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের জটিলতা ফরিদপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।