আড়তদারদের সিন্ডিকেট? ফরিদপুরে শত শত চামড়া মাটিচাপা
- আপডেট সময় : ০৩:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
- / 35
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে শত শত গরু ও ছাগলের চামড়া মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। তীব্র ক্রেতা সংকট, আড়তদারদের সিন্ডিকেট এবং অতিরিক্ত সংরক্ষণ ব্যয়ের কারণে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে চরম হতাশা ও ক্ষোভ থেকে স্থানীয়রা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর ফলে প্রতি বছরের মতো এবারও অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়েছে সাধারণ মানুষ, স্থানীয় মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো।
উপজেলার গট্টি, রামকান্তপুর, আটঘর ও সোনাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির পর সংগ্রহ করা চামড়াগুলো দীর্ঘ সময় বাড়ির উঠান ও রাস্তার পাশে অবহেলায় পড়ে ছিল। একপর্যায়ে চামড়া পচতে শুরু করলে দুর্গন্ধ ছড়ানো ও পরিবেশ দূষণের আশঙ্কায় অনেকেই বাধ্য হয়ে তা বাড়ির পাশেই গর্ত করে মাটিচাপা দেন।
আড়তদারদের অনাগ্রহ ও লবণের চড়া দাম:
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে খোয়াড় গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল মাতুব্বর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে একটা গরুর চামড়া বিক্রি করে এক থেকে দুই হাজার টাকা পাওয়া যেত। আর এবার ২০০-৩০০ টাকাও কেউ দিতে চায়নি। শেষে পচে দুর্গন্ধ হওয়ার ভয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলেছি।”
একই সুর গট্টি এলাকার কৃষক রহিম শেখের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “লবণের দাম আকাশছোঁয়া, আবার চামড়া রাখার জায়গাও নেই। আড়তদাররা এলাকায় আসে নাই। এত টাকা খরচ করে লবণ কিনে চামড়া সংরক্ষণ করে আমাদের লাভ কী?”
চামড়া সংগ্রহে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে মাদরাসা-এতিমখানা:
মৌসুমী ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকটি মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষও এবার চামড়া সংগ্রহে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। আবু মুসা নামে একজন মাদরাসা শিক্ষক জানান, চামড়া সংগ্রহ করে আড়তে নেওয়ার পরিবহন খরচই এবার উঠছে না। অনেক সময় আড়তে নিয়ে গিয়েও বিক্রি না করে ফেরত আসতে হয়। তাই লোকসান এড়াতে এবার আগের মতো চামড়া সংগ্রহ করা হয়নি।
ইউএনও’র দাবি বনাম স্থানীয়দের অভিযোগ:
সরকারিভাবে ইউনিয়ন পর্যায়ে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরই এমন সংকট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সমাজকর্মী মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, চামড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে তা নষ্ট হচ্ছে।
তবে এই সংকটের বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন মাদরাসা, মসজিদ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারিভাবে ৮ টন লবণ বিতরণ করেছি। এ ছাড়া চামড়া সংরক্ষণের জন্য জনসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। তবে বাজারে দাম কিছুটা কম থাকায় চামড়া ফেলে দেওয়ার কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। প্রশাসন হিসেবে আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ছিল।”
প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও স্থানীয়দের দাবি—চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, লবণে ভর্তুকি এবং দ্রুত সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা চালু করা না হলে আগামী বছরগুলোতেও দেশের এই মূল্যবান জাতীয় সম্পদ এভাবে মাটির নিচেই বিলীন হয়ে যাবে।



















