ঢাকা ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ জখম ৬০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • / 101

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কার্ডের চাল বিতরণ ও ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৬০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে উপজেলার বাবলাতলা এলাকায় দুই দফায় এই রণক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়।

সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে:

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার দুদিন আগে উপজেলার ৮ নম্বর চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদে অসহায় জনগোষ্ঠীর মাঝে সরকারি খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফের চাল) বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় আকরাম খান নামের এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে গরিবদের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। লাইভে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার জেরে শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় চুমুরদী ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগ মিয়ার ছোট ভাই চন্দনের সঙ্গে আকরাম খানের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন ঢাল, শড়কি, টেঁটা ও ইটপাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আকরাম খানের পক্ষে স্থানীয় শাহাবুদ্দিন মোল্লা এবং চন্দনের পক্ষে ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগ মিয়া ও ইসরাফিলসহ তাদের সমর্থকরা অংশ নেন। শুক্রবারের প্রথম দফার দুই ঘণ্টার সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। এরপর শনিবার সকালে দ্বিতীয় দফায় আবারও উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে আরও ৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান বনাম লাইভকারীর পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ:

চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহাগ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আকরাম নামের ওই ব্যক্তি স্থানীয় এমপির ছোট ভাইয়ের ভুয়া পরিচয় দিয়ে কার্ড ছাড়াই চাল নিতে গিয়েছিলেন। চাল না পেয়ে তিনি ফেসবুকে লাইভে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর দুদিন পর আমার ছোট ভাই বাড়ি ফেরার পথে আকরামের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।”

অন্যদিকে আকরাম খান চাল চুরির দাবি তুলে বলেন, “ভিজিএফ কার্ডের ১০ কেজি চালের জায়গায় গরিব মানুষকে ৭ থেকে ৮ কেজি দেওয়া হচ্ছিল। এই খবর পেয়ে আমি ফেসবুক লাইভ করি। আমার লাইভ দেখে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড স্যার এসে বিষয়টি তদারকিও করে যান। কিন্তু চেয়ারম্যানের ভাই চন্দন আমাকে অহেতুক মারধর করায় দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাধে।”

ওসির বক্তব্য:

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মূলত স্থানীয় বিএনপির কমিটি গঠন এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই দুই পক্ষের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ জখম ৬০

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কার্ডের চাল বিতরণ ও ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৬০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে উপজেলার বাবলাতলা এলাকায় দুই দফায় এই রণক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়।

সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে:

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার দুদিন আগে উপজেলার ৮ নম্বর চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদে অসহায় জনগোষ্ঠীর মাঝে সরকারি খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফের চাল) বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় আকরাম খান নামের এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে গরিবদের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। লাইভে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার জেরে শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় চুমুরদী ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগ মিয়ার ছোট ভাই চন্দনের সঙ্গে আকরাম খানের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন ঢাল, শড়কি, টেঁটা ও ইটপাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আকরাম খানের পক্ষে স্থানীয় শাহাবুদ্দিন মোল্লা এবং চন্দনের পক্ষে ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগ মিয়া ও ইসরাফিলসহ তাদের সমর্থকরা অংশ নেন। শুক্রবারের প্রথম দফার দুই ঘণ্টার সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। এরপর শনিবার সকালে দ্বিতীয় দফায় আবারও উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে আরও ৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান বনাম লাইভকারীর পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ:

চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহাগ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আকরাম নামের ওই ব্যক্তি স্থানীয় এমপির ছোট ভাইয়ের ভুয়া পরিচয় দিয়ে কার্ড ছাড়াই চাল নিতে গিয়েছিলেন। চাল না পেয়ে তিনি ফেসবুকে লাইভে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর দুদিন পর আমার ছোট ভাই বাড়ি ফেরার পথে আকরামের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।”

অন্যদিকে আকরাম খান চাল চুরির দাবি তুলে বলেন, “ভিজিএফ কার্ডের ১০ কেজি চালের জায়গায় গরিব মানুষকে ৭ থেকে ৮ কেজি দেওয়া হচ্ছিল। এই খবর পেয়ে আমি ফেসবুক লাইভ করি। আমার লাইভ দেখে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড স্যার এসে বিষয়টি তদারকিও করে যান। কিন্তু চেয়ারম্যানের ভাই চন্দন আমাকে অহেতুক মারধর করায় দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাধে।”

ওসির বক্তব্য:

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মূলত স্থানীয় বিএনপির কমিটি গঠন এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই দুই পক্ষের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।