ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ভাতিজাদের হামলায় চাচা নিহত

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • / 513

ফরিদপুরের সদরপুরে পৈত্রিক সম্পত্তি ও গাছ কাটা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভাতিজাদের বর্বরোচিত হামলায় এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর গ্রামের কাজীডাঙ্গী এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই হামলায় এক রাজনৈতিক নেতাসহ আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত ব্যক্তির নাম কাজী সিরাজুল ইসলাম (৬২)। হামলায় গুরুতর আহত মো. কাজী মাসুদ রানা (৩৬) সদরপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক বলে দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যেভাবে ঘটল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড:

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, চর চাঁদপুর গ্রামে পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগাভাগি এবং গাছ কাটা নিয়ে কাজী পরিবারের শরিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে কাজী সুমন (৪২) ও কাজী তুষার (৩৮) নামের দুই ভাতিজা দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হঠাৎ কাজী মাসুদ রানা ও বৃদ্ধ কাজী সিরাজুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুজনেই রক্তাক্ত ও মারাত্মক জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

হাসপাতালে একজনের মৃত্যু, ওসির বক্তব্য:

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুজনের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক বৃদ্ধ কাজী সিরাজুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, নিহত বৃদ্ধের মরদেহ বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই জড়িতরা পলাতক রয়েছে। এই বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই জড়িতদের গ্রেপ্তারে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে ভাতিজাদের হামলায় চাচা নিহত

আপডেট সময় : ১২:৩১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

ফরিদপুরের সদরপুরে পৈত্রিক সম্পত্তি ও গাছ কাটা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভাতিজাদের বর্বরোচিত হামলায় এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর গ্রামের কাজীডাঙ্গী এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই হামলায় এক রাজনৈতিক নেতাসহ আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত ব্যক্তির নাম কাজী সিরাজুল ইসলাম (৬২)। হামলায় গুরুতর আহত মো. কাজী মাসুদ রানা (৩৬) সদরপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক বলে দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যেভাবে ঘটল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড:

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, চর চাঁদপুর গ্রামে পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগাভাগি এবং গাছ কাটা নিয়ে কাজী পরিবারের শরিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে কাজী সুমন (৪২) ও কাজী তুষার (৩৮) নামের দুই ভাতিজা দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হঠাৎ কাজী মাসুদ রানা ও বৃদ্ধ কাজী সিরাজুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুজনেই রক্তাক্ত ও মারাত্মক জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

হাসপাতালে একজনের মৃত্যু, ওসির বক্তব্য:

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুজনের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক বৃদ্ধ কাজী সিরাজুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, নিহত বৃদ্ধের মরদেহ বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই জড়িতরা পলাতক রয়েছে। এই বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই জড়িতদের গ্রেপ্তারে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।