ঢাকা ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুয়েট থেকে এমআইটি, সেখান থেকে কানাডায় গবেষণাপেশায়... ফেসবুক স্ট্যাটাসের পরদিনই ওকানাগান লেকে মিলল নিথর দেহ।

আমেরিকান স্বপ্ন মৃত -নিথর দেহে ফিরছে শাশ্বত সৌম্য, গবেষণা জগতে শোকের ছায়া

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫
  • / 897

“আমার আমেরিকান স্বপ্ন মৃত এবং তা মৃতই থাকবে”—এই লাইনটি লিখে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন বাংলাদেশি মেধাবী গবেষক শাশ্বত সৌম্য। তার পরদিনই (২ জুন) কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার কেলৌনা ক্যাম্পাস সংলগ্ন ওকানাগান লেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার নিথর দেহ। আগামী ২০ জুন (শুক্রবার) তার মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ।

শাশ্বত সৌম্য (২৮) ছিলেন কুষ্টিয়ার আলামপুর গ্রামের সন্তান। বাবা সুশান্ত প্রামাণিক ও মা প্রফেসর শিখা চক্রবর্তীর বড় ছেলে সৌম্য ছোটবেলা থেকেই ছিলেন চরম মেধাবী। ঢাকা আইডিয়াল স্কুল, নটরডেম কলেজ পেরিয়ে ২০২১ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিজিপিএ ৪.০০ পেয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

এরপর শিক্ষকতা শুরু করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিছুদিন পরই বুয়েটের শিক্ষক হিসেবে যোগদান। ২০২২ সালে পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)-তে পিএইচডি করার ফুল স্কলারশিপ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে তার গবেষণা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আমন্ত্রিত বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার এনএলপি (ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং) গবেষণা দলে। বক্তৃতা শুনে মুগ্ধ হয়ে তাকে আরও কিছু গবেষণায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানায় প্রতিষ্ঠানটি। প্রস্তাবে সম্মত হয়ে তিনি আরও কয়েকদিন সেখানে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে ৩১ মে নিজের ফেসবুক পোস্টে শাশ্বত সৌম্য লেখেন—

“গত সপ্তাহে আমি ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি টক দিতে এসেছিলাম… ইউবিসিতে বক্তৃতার পর এখানকার এনএলপি গবেষক দল আমাকে কিছুদিনের জন্য কাজ করার প্রস্তাব দেয়… কিন্তু আমার অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। আমার আমেরিকান স্বপ্ন মৃত এবং তা মৃতই থাকবে।”

এর ঠিক একদিন পর ২ জুন সকালে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় ওকানাগান লেক থেকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, হাঁটতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পা পিছলে তিনি লেকে পড়ে যেতে পারেন। তবে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।

শাশ্বত সৌম্য’র মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এমআইটি কর্তৃপক্ষ। তারা এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি একটি অপ্রত্যাশিত ও মর্মান্তিক ঘটনা।” তার সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনদের অনেকেই বলছেন, “এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয়।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সৌম্য’র মৃত্যু ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, “অবিশ্বাস্য ও হৃদয়বিদারক”, আবার কেউ বলছেন, “এই মৃত্যু মানতে পারছি না।” সৌম্যের মা-বাবার সঙ্গে শেষবার তার যোগাযোগ ছিল ১ জুন রাত ১১টার দিকে। এরপর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তিনি।

পরিবার বলছে, শাশ্বতের এভাবে চলে যাওয়া শুধু একটি পরিবার বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি নয়, এটি একটি জাতি ও বৈশ্বিক বিজ্ঞান অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

বুয়েট থেকে এমআইটি, সেখান থেকে কানাডায় গবেষণাপেশায়... ফেসবুক স্ট্যাটাসের পরদিনই ওকানাগান লেকে মিলল নিথর দেহ।

আমেরিকান স্বপ্ন মৃত -নিথর দেহে ফিরছে শাশ্বত সৌম্য, গবেষণা জগতে শোকের ছায়া

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫

“আমার আমেরিকান স্বপ্ন মৃত এবং তা মৃতই থাকবে”—এই লাইনটি লিখে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন বাংলাদেশি মেধাবী গবেষক শাশ্বত সৌম্য। তার পরদিনই (২ জুন) কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার কেলৌনা ক্যাম্পাস সংলগ্ন ওকানাগান লেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার নিথর দেহ। আগামী ২০ জুন (শুক্রবার) তার মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ।

শাশ্বত সৌম্য (২৮) ছিলেন কুষ্টিয়ার আলামপুর গ্রামের সন্তান। বাবা সুশান্ত প্রামাণিক ও মা প্রফেসর শিখা চক্রবর্তীর বড় ছেলে সৌম্য ছোটবেলা থেকেই ছিলেন চরম মেধাবী। ঢাকা আইডিয়াল স্কুল, নটরডেম কলেজ পেরিয়ে ২০২১ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিজিপিএ ৪.০০ পেয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

এরপর শিক্ষকতা শুরু করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিছুদিন পরই বুয়েটের শিক্ষক হিসেবে যোগদান। ২০২২ সালে পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)-তে পিএইচডি করার ফুল স্কলারশিপ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে তার গবেষণা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আমন্ত্রিত বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার এনএলপি (ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং) গবেষণা দলে। বক্তৃতা শুনে মুগ্ধ হয়ে তাকে আরও কিছু গবেষণায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানায় প্রতিষ্ঠানটি। প্রস্তাবে সম্মত হয়ে তিনি আরও কয়েকদিন সেখানে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে ৩১ মে নিজের ফেসবুক পোস্টে শাশ্বত সৌম্য লেখেন—

“গত সপ্তাহে আমি ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি টক দিতে এসেছিলাম… ইউবিসিতে বক্তৃতার পর এখানকার এনএলপি গবেষক দল আমাকে কিছুদিনের জন্য কাজ করার প্রস্তাব দেয়… কিন্তু আমার অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। আমার আমেরিকান স্বপ্ন মৃত এবং তা মৃতই থাকবে।”

এর ঠিক একদিন পর ২ জুন সকালে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় ওকানাগান লেক থেকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, হাঁটতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পা পিছলে তিনি লেকে পড়ে যেতে পারেন। তবে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।

শাশ্বত সৌম্য’র মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এমআইটি কর্তৃপক্ষ। তারা এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি একটি অপ্রত্যাশিত ও মর্মান্তিক ঘটনা।” তার সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনদের অনেকেই বলছেন, “এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয়।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সৌম্য’র মৃত্যু ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, “অবিশ্বাস্য ও হৃদয়বিদারক”, আবার কেউ বলছেন, “এই মৃত্যু মানতে পারছি না।” সৌম্যের মা-বাবার সঙ্গে শেষবার তার যোগাযোগ ছিল ১ জুন রাত ১১টার দিকে। এরপর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তিনি।

পরিবার বলছে, শাশ্বতের এভাবে চলে যাওয়া শুধু একটি পরিবার বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি নয়, এটি একটি জাতি ও বৈশ্বিক বিজ্ঞান অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।