উন্নয়ন প্রকল্পে নদীপ্রবাহ সুরক্ষায় জোর দিলেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস
- আপডেট সময় : ১০:২৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
- / 198
উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নদীর পানিপ্রবাহ যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বুধবার (১৮ জুন, ২০২৫) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়ন’ প্রকল্প নিয়ে এক বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি এই নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জোং এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তাদের একটি দল এই প্রকল্পের বিস্তারিত রূপকল্প, কৌশল ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া উপস্থাপন করে।
তিনটি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ জোর
প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দিতে নির্দেশ দেন:
১. নদীপ্রবাহের সুরক্ষা: প্রফেসর ইউনূস বলেন, “আমাদের অবশ্যই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে আমাদের নদীপ্রবাহকে। বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপ। আমরা কোনোভাবেই আমাদের পানিপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে চাই না।” ২. জনসংখ্যা ও বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনা: তিনি আরও বলেন, “যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ওই এলাকার জনসংখ্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। আমাদের দেশ বন্যাপ্রবণ। তাই পানিপ্রবাহ বন্ধ করে এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলবে।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বন্যার সময় মানুষ উঁচু রাস্তা, সেতু ও রেলপথে আশ্রয় নেয়। তাই সেতু শুধু নির্মাণ করলেই হবে না, এটি জনগণের জন্য আশ্রয় হচ্ছে নাকি বিপদ ডেকে আনছে, সেটাও বিবেচনা করতে হবে। ৩. আন্তর্জাতিক সংযোগ: প্রধান উপদেষ্টা তৃতীয়ত আন্তর্জাতিক সংযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “আমরা এ অঞ্চলে একটি ইনভেস্টমেন্ট হাব তৈরি করতে চাই। সেজন্য প্রকল্প এমন হতে হবে যা নেপাল, ভুটানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকেও সংযুক্ত করবে।”
পানি বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্তকরণ ও মাস্টারপ্ল্যানের নির্দেশ
বৈঠকে প্রফেসর ইউনূস এই উন্নয়ন প্রকল্পে পানি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করতে এবং একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরিরও নির্দেশ দেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রধান উপদেষ্টার কথার প্রতিধ্বনি করে বলেন, “এর আগে হাওর এলাকায় বিশাল সড়ক নির্মাণ হয়েছে, কিন্তু পরে দেখা গেল সেটি ওই অঞ্চলের পুরো ইকোসিস্টেমকে ধ্বংস ভেঙে দিয়েছে। মানুষ মারাত্মকভাবে বন্যার কবলে পড়েছে। সুতরাং যেকোনো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করতেই হবে।”
এসময় বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি–বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া।





















