ফরিদপুরে তোলপাড়: জিয়া মঞ্চের সভাপতি হত্যা মামলার প্রধান আসামি
- আপডেট সময় : ১০:৩৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
- / 1249
ফরিদপুর শহরতলির কানাইপুরে চাঞ্চল্যকর ওবায়দুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি খায়রুজ্জামান খাজাকে সদর উপজেলার জিয়া মঞ্চের সভাপতি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি, দস্যুতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন, ২০২৫) দুপুরের দিকে শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সভায় সংগঠনটির সদর উপজেলার আংশিক কমিটির সভাপতি হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়।
নবগঠিত কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে জিয়া মঞ্চ ফরিদপুর জেলা শাখার কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন নেতারা।
এ সময় জিয়া মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম টি আখতার টুটুল, ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস সাজ্জাদ আহমেদ শাওন, জেলা জিয়া মঞ্চের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ বি এম মোর্শেদ পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী উপস্থিত ছিলেন।
খাজার অপরাধের দীর্ঘ রেকর্ড: হত্যা থেকে অস্ত্রের মহড়া
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ভাটী লক্ষ্মীপুর গ্রামের হানিফ মাতবরের ছেলে খায়রুজ্জামান খাজা। তার বড় ভাই বর্তমান কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আলতাফ হুসাইন। এছাড়া তিনি সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রহমানের কথিত ভাগনে।
খায়রুজ্জামান খাজা পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা পুলিশের হাতে একাধিকবার আগ্নেয়াস্ত্র, ইয়াবা, দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলিসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। সে সময় সড়কে বাসে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় তাকে আটক করা হয় এবং বেশ কয়েকটি ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। ২০২১ সালের ১৫ মে দুজন সহযোগীসহ কোতোয়ালি থানা পুলিশ খাজাকে গ্রেপ্তার করে।
২০২২ সালের ১৬ এপ্রিল ইয়াবাসহ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। একই বছরে তৎকালীন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান অন্যত্র বদলির পরেরদিন এলাকায় ছাত্রলীগের বিভক্তিকরণে সহযোগীদের নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেন খাজা। সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। এরপরই ২৮ আগস্ট দেশীয় অস্ত্রসহ খাজা ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ওবায়দুর হত্যা মামলা ও জিয়া মঞ্চের ব্যাখ্যা
সবশেষ চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি নির্যাতনে নির্মমভাবে খুন হন কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বিল্লাল খানের ছোট ছেলে ওবায়দুর রহমান খান। ওবায়দুরকে তুলে নিয়ে পেরেক দিয়ে দুই চোখ খোঁচানো হয়, হাত-পায়ের রগ কেটে ফেলা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ১১ জানুয়ারি দিনগত রাতে খাজাকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১৫ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের মা রেখা বেগম।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে খায়রুজ্জামান খাজার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে, জেলা জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী দাবি করেন, খাজা কানাইপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ গ্রুপের রোষানলে তাকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওবায়দুর হত্যা মামলায় আদালত এখনো তাকে দোষী সাব্যস্ত করেননি এবং ঘটনাস্থলেও খাজা ছিলেন না। ইব্রাহিম আলী খাজা’কে একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে, তাকে দলে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, কানাইপুরে ওবায়দুর হত্যার মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামলাটি তদন্তাধীন। তিনি জানান, সম্প্রতি খায়রুজ্জামান খাজা উচ্চ আদালত থেকে কয়েক সপ্তাহের জামিনে রয়েছেন।





















