ঢাকা ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর: ২ মাস পরও বিচার মেলেনি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
  • / 306

ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের হাবেলী দয়ারামপুর গ্রামে গত ৪ এপ্রিল এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেলিনা বেগম ও তার স্বামী শেখ বিল্লালের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতকারী। হামলাকারীরা বাড়ির সিসি ক্যামেরা, টিনের বাউন্ডারি, জানালার গ্লাস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে। এছাড়া, নগদ অর্থ, স্বর্ণের চেইন ও চুরি ছিনিয়ে নেয় তারা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও, দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগী পরিবার এখনও বিচার পায়নি বলে অভিযোগ করেছে।

ওই দিন বিকেলে শেখ জালাল, রাসেল শেখ, নাইম শেখ, রাজিব শেখ, মমতা বেগম বুড়ি, পান্না বেগম, আন্না বেগম, টিপু শেখ, লাবনী আক্তার, আনোয়ারা বেগম গং জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে এই তাণ্ডব চালায়। তারা সেলিনা বেগমের গলা থেকে ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন (আনুমানিক মূল্য ১.৫ লক্ষ টাকা) এবং পান্না বেগম তার হাতে থাকা ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চুড়ি (আনুমানিক মূল্য ১.৫ লক্ষ টাকা) ছিনিয়ে নেয়।

হামলাকারীরা বাড়ির সকলকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে বাউন্ডারি গেটে তালা মেরে দেয়। শুধু তাই নয়, তারা সেলিনা বেগম, তার স্বামী শেখ বিল্লাল ও ছেলে ফয়সালকে মারধর করে গুরুতর জখম করে।

৯৯৯-এ ফোন ও আদালতের নির্দেশ

নির্যাতনের শিকার হয়ে বাদীনী সেলিনা বেগম ৯৯৯-এ ফোন করেন। পুলিশের সহায়তায় বাড়ির গেটের তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হয় এবং শেখ বিল্লাল ও ফয়সালকে চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসা শেষে কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আশরাফকে তদন্তভার দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আসামীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অভিযোগের কার্যকারিতা গ্রহণ করেননি।

এরপর সেলিনা বেগম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালত, ফরিদপুরে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আসিফ এলাহী বিষয়টি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এজাহার হিসেবে গণ্য করে মামলা রুজু করার জন্য কোতয়ালী থানার অফিসার-ইন-চার্জকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক মামলাটি রুজু করা হয় (নং- ২১, তারিখ: ০৯/০৪/২০২৫ইং) এবং এসআই কবির আহমেদকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

জামিনে বেরিয়ে আসামীদের হুমকি, শালিসে সুরাহা হয়নি

ইতিমধ্যে সকল আসামী আদালতে হাজির হয়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। জামিনে আসার পর আসামীরা পুনরায় বাদীনী ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে এবং তাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে এলাকায় বিভিন্ন সময় শালিসী বৈঠক হলেও কোনো প্রকার সুরাহা না হওয়ায় বাদীনী তার পরিবার নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারটি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, দুই মাস অতিবাহিত হলেও তারা এখনও বিচার পাননি।

পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটনা: পুলিশ যা বলছে

এ ব্যাপারে ৮নং ওয়ার্ডের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সভাপতি মাসুদ মোল্যা জানান, বাদী এবং আসামীরা পরস্পরের আত্মীয়। বাদীনীর ছেলের সঙ্গে শেখ জালালের মেয়ের বিবাহকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত। তিনি বলেন, এলাকায় দুই বার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসেও বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায়নি।

মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আশরাফ জানান, তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি মিমাংসার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনো পক্ষই মিমাংসায় রাজি না হওয়ায় বাদীনী সেলিনা বেগম আদালতে মামলা করেন এবং আদালতের নির্দেশেই আসামীদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা রুজু হয়। এরপর এসআই কবির আহমেদকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কবির আহমেদ জানান, মামলা রুজু হওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন আসামীরা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা সনদের জন্য ফরিদপুর সদর হাসপাতালে আবেদন করা হয়েছে। চিকিৎসা সনদ হাতে পেলে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগী সেলিনা বেগমের পরিবার যাতে দ্রুত বিচার পায়, সে ব্যাপারে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

ফরিদপুরে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর: ২ মাস পরও বিচার মেলেনি

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের হাবেলী দয়ারামপুর গ্রামে গত ৪ এপ্রিল এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেলিনা বেগম ও তার স্বামী শেখ বিল্লালের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতকারী। হামলাকারীরা বাড়ির সিসি ক্যামেরা, টিনের বাউন্ডারি, জানালার গ্লাস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে। এছাড়া, নগদ অর্থ, স্বর্ণের চেইন ও চুরি ছিনিয়ে নেয় তারা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও, দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগী পরিবার এখনও বিচার পায়নি বলে অভিযোগ করেছে।

ওই দিন বিকেলে শেখ জালাল, রাসেল শেখ, নাইম শেখ, রাজিব শেখ, মমতা বেগম বুড়ি, পান্না বেগম, আন্না বেগম, টিপু শেখ, লাবনী আক্তার, আনোয়ারা বেগম গং জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে এই তাণ্ডব চালায়। তারা সেলিনা বেগমের গলা থেকে ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন (আনুমানিক মূল্য ১.৫ লক্ষ টাকা) এবং পান্না বেগম তার হাতে থাকা ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চুড়ি (আনুমানিক মূল্য ১.৫ লক্ষ টাকা) ছিনিয়ে নেয়।

হামলাকারীরা বাড়ির সকলকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে বাউন্ডারি গেটে তালা মেরে দেয়। শুধু তাই নয়, তারা সেলিনা বেগম, তার স্বামী শেখ বিল্লাল ও ছেলে ফয়সালকে মারধর করে গুরুতর জখম করে।

৯৯৯-এ ফোন ও আদালতের নির্দেশ

নির্যাতনের শিকার হয়ে বাদীনী সেলিনা বেগম ৯৯৯-এ ফোন করেন। পুলিশের সহায়তায় বাড়ির গেটের তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হয় এবং শেখ বিল্লাল ও ফয়সালকে চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসা শেষে কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আশরাফকে তদন্তভার দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আসামীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অভিযোগের কার্যকারিতা গ্রহণ করেননি।

এরপর সেলিনা বেগম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালত, ফরিদপুরে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আসিফ এলাহী বিষয়টি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এজাহার হিসেবে গণ্য করে মামলা রুজু করার জন্য কোতয়ালী থানার অফিসার-ইন-চার্জকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক মামলাটি রুজু করা হয় (নং- ২১, তারিখ: ০৯/০৪/২০২৫ইং) এবং এসআই কবির আহমেদকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

জামিনে বেরিয়ে আসামীদের হুমকি, শালিসে সুরাহা হয়নি

ইতিমধ্যে সকল আসামী আদালতে হাজির হয়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। জামিনে আসার পর আসামীরা পুনরায় বাদীনী ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে এবং তাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে এলাকায় বিভিন্ন সময় শালিসী বৈঠক হলেও কোনো প্রকার সুরাহা না হওয়ায় বাদীনী তার পরিবার নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারটি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, দুই মাস অতিবাহিত হলেও তারা এখনও বিচার পাননি।

পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটনা: পুলিশ যা বলছে

এ ব্যাপারে ৮নং ওয়ার্ডের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সভাপতি মাসুদ মোল্যা জানান, বাদী এবং আসামীরা পরস্পরের আত্মীয়। বাদীনীর ছেলের সঙ্গে শেখ জালালের মেয়ের বিবাহকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত। তিনি বলেন, এলাকায় দুই বার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসেও বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায়নি।

মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আশরাফ জানান, তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি মিমাংসার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনো পক্ষই মিমাংসায় রাজি না হওয়ায় বাদীনী সেলিনা বেগম আদালতে মামলা করেন এবং আদালতের নির্দেশেই আসামীদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা রুজু হয়। এরপর এসআই কবির আহমেদকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কবির আহমেদ জানান, মামলা রুজু হওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন আসামীরা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা সনদের জন্য ফরিদপুর সদর হাসপাতালে আবেদন করা হয়েছে। চিকিৎসা সনদ হাতে পেলে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগী সেলিনা বেগমের পরিবার যাতে দ্রুত বিচার পায়, সে ব্যাপারে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।