বাবার ফেরার দিনেই ফরিদপুরে ব্রিজ থেকে পড়ে একমাত্র ছেলের করুণ মৃত্যু
- আপডেট সময় : ১২:০১:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
- / 624
দীর্ঘ ১৫ বছর পর জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছিলেন বাবা কামাল হোসেন। কিন্তু একমাত্র ছেলে মো. নুরুদ্দিন হোসেনের (১৭) সঙ্গে তার আর দেখা হলো না। বাবা দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টা আগেই বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে ব্রিজ থেকে পড়ে মারা গেছে নুরুদ্দিন। মঙ্গলবার (২৪ জুন, ২০২৫) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা গোল চত্বর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নুরুদ্দিন এবার মোহনগঞ্জ আদর্শ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা শেষে ফলপ্রার্থী ছিল। সে বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান।
দুর্ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে নুরুদ্দিন হোসেন বন্ধুদের সঙ্গে ৪০ দিনের তাবলিগ জামাতে গিয়েছিল। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে। ৬ দিন পর তার বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। তাই বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে সে ভাঙ্গা গোল চত্বর দেখতে এসেছিল। ঘুরতে ঘুরতে অসাবধানতাবশত ব্রিজের ওপর থেকে নিচে পড়ে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
বাবার ১৫ বছরের অপেক্ষা, অপূর্ণ রয়ে গেল শেষ দেখা
নুরুদ্দিনের বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখনই তাকে রেখে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমান বাবা কামাল হোসেন। দীর্ঘ ১৫ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে মঙ্গলবার সকালেই তিনি দেশে ফিরে আসেন। সে সময় একমাত্র সন্তান বাড়িতে ছিল না, নুরুদ্দিন বন্ধুদের সঙ্গে তাবলিগ জামাতের ৪০ দিনের ‘চিল্লা’য় ছিল। দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কামাল হোসেন তার একমাত্র ছেলের মৃত্যুর খবর পান। এই অপ্রত্যাশিত বিয়োগে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নুরুদ্দিনের বন্ধু মহাসিন শেখ জানায়, “নুরুদ্দিন শান্ত, মেধাবী ও ধার্মিক প্রকৃতির ছিল। পরীক্ষা শেষ করে এলোমেলো না ঘুরে তার উৎসাহেই আমরা চিল্লায় বের হই। আমরা চিল্লা শেষ করে কয়েক দিন পর সবাই যার যার বাড়ি ফিরব, সেই আনন্দে ছিলাম। কিন্তু আনন্দ যে এমন করুন বেদনা হয়ে উঠবে ভাবতে পারিনি।”
মহাসিন আরও জানায়, “বিকেলে ঘুরাফেরা শেষে মাগরিবের আজান হলে জামাতে অংশ নিতে দ্রুত ঈদগাহ মসজিদের দিকে রওনা হই। চার বন্ধু পেছনে, নুরুদ্দিন অনেকটা সামনে ছিল। অন্ধকারে ব্রিজের ওপর থেকে অসাবধানতায় নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।”
পুলিশের বক্তব্য
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ হোসেন জানান, ঘুরতে গিয়ে ব্রিজ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় ওই তরুণ। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাতেই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।





















