ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ফিটনেসবিহীন বাস: রেডিয়েটর বিস্ফোরণে ঝলসে গেল শিশুর দুই পা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 444

ফরিদপুর থেকে গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী যাওয়ার পথে বাসের রেডিয়েটর বিস্ফোরণে গরম পানিতে ঝলসে গেছে ছয় বছরের শিশু প্রকৃতি হালদারের দুটি পা। বর্তমানে সে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর জানা গেছে, যে বাসটিতে ঘটনাটি ঘটেছে সেটির কোনো ফিটনেস সনদ ছিল না।

ভয়াবহ দুর্ঘটনার বিবরণ

প্রকৃতি হালদার রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ফরিদপুরে তার বড় বোন শিল্পী হালদারের কাছে থেকে সে সানরাইজ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্লে গ্রুপে পড়তো। গত ২৪ জুলাই ফরিদপুর থেকে কুষ্টিয়াগামী রাজবাড়ী মালিক সমিতির একটি লোকাল বাসে করে মেজ বোন পূর্ণিমা হালদারের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিল সে।

বাসে সিট খালি না থাকায় ইঞ্জিনের পাশে একটি সিটে পূর্ণিমা হালদারের কোলে বসে ছিল প্রকৃতি। বিকেল ৫টার দিকে বাসটি রাজবাড়ী শহরের মুরগির ফার্ম এলাকায় পৌঁছালে তার রেডিয়েটর বিস্ফোরিত হয়। এতে গরম পানিতে প্রকৃতির দুই পা ঝলসে যায়।

পূর্ণিমা হালদার জানান, বাসটি থামিয়ে চালক তার সহকারীকে ইঞ্জিন দেখতে বলেন। তখনই রেডিয়েটরের মুখ খুলতে গিয়ে সেটি বিস্ফোরিত হয়। এ সময় ধোঁয়া ও গরম পানি ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চিকিৎসা ও আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি

স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজবাড়ী হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত নার্স জানান, শিশুটির হাঁটুর নিচ থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে তার অনেক সময় লাগবে।

শিশুটির বড় বোন শিল্পী হালদার অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর তারা রাজবাড়ী বাস মালিক সমিতিতে অভিযোগ জানাতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পারি বাসটির কোনো ফিটনেস সনদ বা কাগজপত্র নেই। আমার ছোট বোনটির এই ক্ষতির জন্য আমরা দ্রুতই আইনি ব্যবস্থা নেব।’

বাস মালিক সমিতির স্বীকারোক্তি

রাজবাড়ী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক বাসটির ফিটনেস সনদ না থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাসটির সনদের মেয়াদ দু-এক মাস আগেই শেষ হয়েছে।’ তবে তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে তারা শিশুটির পরিবারের খোঁজখবর রাখছেন এবং আগামীকাল তাদের সঙ্গে বসবেন।

বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুরে ফিটনেসবিহীন বাস: রেডিয়েটর বিস্ফোরণে ঝলসে গেল শিশুর দুই পা

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

ফরিদপুর থেকে গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী যাওয়ার পথে বাসের রেডিয়েটর বিস্ফোরণে গরম পানিতে ঝলসে গেছে ছয় বছরের শিশু প্রকৃতি হালদারের দুটি পা। বর্তমানে সে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর জানা গেছে, যে বাসটিতে ঘটনাটি ঘটেছে সেটির কোনো ফিটনেস সনদ ছিল না।

ভয়াবহ দুর্ঘটনার বিবরণ

প্রকৃতি হালদার রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ফরিদপুরে তার বড় বোন শিল্পী হালদারের কাছে থেকে সে সানরাইজ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্লে গ্রুপে পড়তো। গত ২৪ জুলাই ফরিদপুর থেকে কুষ্টিয়াগামী রাজবাড়ী মালিক সমিতির একটি লোকাল বাসে করে মেজ বোন পূর্ণিমা হালদারের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিল সে।

বাসে সিট খালি না থাকায় ইঞ্জিনের পাশে একটি সিটে পূর্ণিমা হালদারের কোলে বসে ছিল প্রকৃতি। বিকেল ৫টার দিকে বাসটি রাজবাড়ী শহরের মুরগির ফার্ম এলাকায় পৌঁছালে তার রেডিয়েটর বিস্ফোরিত হয়। এতে গরম পানিতে প্রকৃতির দুই পা ঝলসে যায়।

পূর্ণিমা হালদার জানান, বাসটি থামিয়ে চালক তার সহকারীকে ইঞ্জিন দেখতে বলেন। তখনই রেডিয়েটরের মুখ খুলতে গিয়ে সেটি বিস্ফোরিত হয়। এ সময় ধোঁয়া ও গরম পানি ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চিকিৎসা ও আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি

স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজবাড়ী হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত নার্স জানান, শিশুটির হাঁটুর নিচ থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে তার অনেক সময় লাগবে।

শিশুটির বড় বোন শিল্পী হালদার অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর তারা রাজবাড়ী বাস মালিক সমিতিতে অভিযোগ জানাতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পারি বাসটির কোনো ফিটনেস সনদ বা কাগজপত্র নেই। আমার ছোট বোনটির এই ক্ষতির জন্য আমরা দ্রুতই আইনি ব্যবস্থা নেব।’

বাস মালিক সমিতির স্বীকারোক্তি

রাজবাড়ী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক বাসটির ফিটনেস সনদ না থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাসটির সনদের মেয়াদ দু-এক মাস আগেই শেষ হয়েছে।’ তবে তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে তারা শিশুটির পরিবারের খোঁজখবর রাখছেন এবং আগামীকাল তাদের সঙ্গে বসবেন।

বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।