ফরিদপুরে বস্তাবন্দি মরদেহের রহস্যভেদ: সমকামিতার জেরে খুন, গ্রেফতার ১
- আপডেট সময় : ০৫:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫
- / 805
সমকামিতার সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে ফরিদপুরে মো. রেদুয়ান (২৮) নামের এক যুবককে খুন করা হয়েছে। হত্যার পর তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে বিলে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের ঘনিষ্ঠজন জহুরুল মুন্সি ওরফে সুলতান জহিরকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০।
সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এই তথ্য জানান।
যেভাবে জানা গেল ঘটনাটি
গত ১৩ আগস্ট রেদুয়ান ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। এর চার দিন পর ১৭ আগস্ট দুপুরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চাড়ালদিয়া গ্রামের একটি বিলে তার বস্তাবন্দি মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে নিহতের মা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রধান আসামি জহিরকে রোববার (১৭ আগস্ট) রাতে চাড়ালদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করে র্যাব। অভিযানে তার বাড়ি থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু, রক্তমাখা জামাকাপড়, মানিব্যাগ, স্যান্ডেল, এটিএম কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং নিহতের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
হত্যার কারণ ও যেভাবে ঘটল ঘটনা
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত জহির র্যাবকে জানান, নিহত রেদুয়ানের সঙ্গে তার সমকামিতার সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কটি ছিন্ন করতে চাইলে রেদুয়ান তাকে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। ১৩ আগস্ট বিকালে নিজ বাড়িতে রেদুয়ান তাকে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জহির তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন এবং পরে তার মরদেহ বিলে ফেলে দেন।
র্যাব জানায়, ঘটনার তিন দিন পর ১৬ আগস্ট রাতে মরদেহে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়ালে জহির একটি জিআই তার দিয়ে বালুর বস্তা বেঁধে আবারও মরদেহটি বিলে ডুবিয়ে দেন।
র্যাব আরও জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা জানতে গ্রেপ্তারকৃত জহিরকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।





















