ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশি গোয়েন্দা তথ্যে গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী, মাত্র ৩১ ঘণ্টায় জামিন

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
  • / 387

বিদেশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) যাকে গ্রেপ্তার করেছিল, সেই ‘মাদক পাচারকারী’ মাত্র ৩১ ঘণ্টার মধ্যে জামিন পেয়েছেন। এমন দ্রুত জামিনে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিস্মিত হয়েছেন এবং এর কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডিএনসি সূত্র জানায়, গত সোমবার সকালে রাজধানীর গুলশানের মাদানী অ্যাভিনিউ থেকে মো. তরিকুল ইসলাম (৩৭) নামে এক আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার কার্যালয় থেকে প্রায় দেড় লাখ ট্রামাডল বড়ি উদ্ধার করা হয়।

যেভাবে ধরা পড়লেন পাচারকারী

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, তরিকুল ইসলাম নিজেই ট্রামাডল পাচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশে যেতেন। এ জন্য তিনি ভিসা করতে গেলে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা তার বিষয়ে তথ্য দেয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ডিএনসি অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

উদ্ধারকৃত ট্রামাডল একটি অপ্রচলিত মাদক, যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের তফসিলে ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত।

জামিন নিয়ে রহস্য ও প্রশ্ন

তরিকুলকে মঙ্গলবার বিকেলে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে হাজির করা হয়। কিন্তু রিমান্ড শুনানি শুরুর মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে যান। এই দ্রুত জামিন পাওয়ার ঘটনায় ডিএনসি কর্মকর্তারা হতবাক। তারা মামলার দুর্বলতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।

এ বিষয়ে ডিএনসির আইনজীবী নজরুল ইসলাম জানান, বড়িগুলো মাদক কি না, তা রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত না হওয়ায় আদালত আসামিদের জামিন দিয়েছেন। তবে পরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত নিম্ন আদালতে জামিন দেওয়া হয় না।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, তরিকুলের পরিবারের এক সদস্য বিচার বিভাগে কর্মরত, যিনি জামিনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছেন।

বিদেশি গোয়েন্দা তথ্যে গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী, মাত্র ৩১ ঘণ্টায় জামিন

আপডেট সময় : ০২:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

বিদেশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) যাকে গ্রেপ্তার করেছিল, সেই ‘মাদক পাচারকারী’ মাত্র ৩১ ঘণ্টার মধ্যে জামিন পেয়েছেন। এমন দ্রুত জামিনে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিস্মিত হয়েছেন এবং এর কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডিএনসি সূত্র জানায়, গত সোমবার সকালে রাজধানীর গুলশানের মাদানী অ্যাভিনিউ থেকে মো. তরিকুল ইসলাম (৩৭) নামে এক আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার কার্যালয় থেকে প্রায় দেড় লাখ ট্রামাডল বড়ি উদ্ধার করা হয়।

যেভাবে ধরা পড়লেন পাচারকারী

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, তরিকুল ইসলাম নিজেই ট্রামাডল পাচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশে যেতেন। এ জন্য তিনি ভিসা করতে গেলে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা তার বিষয়ে তথ্য দেয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ডিএনসি অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

উদ্ধারকৃত ট্রামাডল একটি অপ্রচলিত মাদক, যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের তফসিলে ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত।

জামিন নিয়ে রহস্য ও প্রশ্ন

তরিকুলকে মঙ্গলবার বিকেলে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে হাজির করা হয়। কিন্তু রিমান্ড শুনানি শুরুর মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে যান। এই দ্রুত জামিন পাওয়ার ঘটনায় ডিএনসি কর্মকর্তারা হতবাক। তারা মামলার দুর্বলতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।

এ বিষয়ে ডিএনসির আইনজীবী নজরুল ইসলাম জানান, বড়িগুলো মাদক কি না, তা রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত না হওয়ায় আদালত আসামিদের জামিন দিয়েছেন। তবে পরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত নিম্ন আদালতে জামিন দেওয়া হয় না।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, তরিকুলের পরিবারের এক সদস্য বিচার বিভাগে কর্মরত, যিনি জামিনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছেন।