ঢাকা ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে মেধার আলোয় জ্বলল ২৩ জনের ভাগ্য, মাত্র ২২০ টাকায় স্বপ্নপূরণ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 255

মাত্র ২২০ টাকা সরকারি ফি জমা দিয়ে পুলিশের ট্রেইনি কনস্টেবল পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ফরিদপুরের ২৩ জন তরুণ-তরুণী। এদের প্রত্যেকেই অসচ্ছল পরিবারের সন্তান। প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে, কোনো রকম দুর্নীতি বা সুপারিশ ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, যা অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো।

২২০ টাকায় স্বপ্নপূরণ

ফরিদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে পুলিশের কনস্টেবল পদের জন্য ১২১১ জন আবেদন করেন। এরপর বিভিন্ন কঠিন শারীরিক ও লিখিত পরীক্ষার ধাপ অতিক্রম করে ২৮ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মধ্য থেকে ২৩ জনকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

এই ২৩ জনের মধ্যে তন্দ্রা আক্তারী একমাত্র নারী কনস্টেবল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার বাবা একজন মাহিন্দ্রা চালক। মাত্র ২২০ টাকায় চাকরি পাওয়ায় তিনি বলেন, “আমার যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হয়েছে। একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে বাবার পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত।”

অদম্য মনোবল আর মেধার জয়

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়া তরুণদের গল্পগুলো যেন এক একটি অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। ট্রাক চালক বাবার ছেলে তামিম মন্ডল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “মাত্র ২২০ টাকায় পুলিশের চাকরি হবে, এটা আমি ভাবতেই পারিনি।”

অন্যদিকে, বন্ধুর পোশাক ধার করে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সিয়াম মোল্লা জানান, তার বাবা একজন কৃষি শ্রমিক। বাবার সাথে কৃষি কাজ করেই তিনি পড়ালেখা চালিয়েছেন। সিয়াম বলেন, “আমার মেধাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই সাফল্য আমার বাবার হাত ধরেই পেয়েছি।”

নিয়োগ বোর্ডের সভাপতির বক্তব্য

ফরিদপুর পুলিশ ট্রেইনি কনস্টেবল পদের নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল বলেন, “পুলিশের নিয়োগে অনেক সময় নানা বিষয়ে অভিযোগ উঠলেও ফরিদপুরে প্রত্যেকেই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এটি স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।”

ফরিদপুরে মেধার আলোয় জ্বলল ২৩ জনের ভাগ্য, মাত্র ২২০ টাকায় স্বপ্নপূরণ

আপডেট সময় : ১১:৪৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মাত্র ২২০ টাকা সরকারি ফি জমা দিয়ে পুলিশের ট্রেইনি কনস্টেবল পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ফরিদপুরের ২৩ জন তরুণ-তরুণী। এদের প্রত্যেকেই অসচ্ছল পরিবারের সন্তান। প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে, কোনো রকম দুর্নীতি বা সুপারিশ ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, যা অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো।

২২০ টাকায় স্বপ্নপূরণ

ফরিদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে পুলিশের কনস্টেবল পদের জন্য ১২১১ জন আবেদন করেন। এরপর বিভিন্ন কঠিন শারীরিক ও লিখিত পরীক্ষার ধাপ অতিক্রম করে ২৮ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মধ্য থেকে ২৩ জনকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

এই ২৩ জনের মধ্যে তন্দ্রা আক্তারী একমাত্র নারী কনস্টেবল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার বাবা একজন মাহিন্দ্রা চালক। মাত্র ২২০ টাকায় চাকরি পাওয়ায় তিনি বলেন, “আমার যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হয়েছে। একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে বাবার পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত।”

অদম্য মনোবল আর মেধার জয়

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়া তরুণদের গল্পগুলো যেন এক একটি অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। ট্রাক চালক বাবার ছেলে তামিম মন্ডল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “মাত্র ২২০ টাকায় পুলিশের চাকরি হবে, এটা আমি ভাবতেই পারিনি।”

অন্যদিকে, বন্ধুর পোশাক ধার করে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সিয়াম মোল্লা জানান, তার বাবা একজন কৃষি শ্রমিক। বাবার সাথে কৃষি কাজ করেই তিনি পড়ালেখা চালিয়েছেন। সিয়াম বলেন, “আমার মেধাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই সাফল্য আমার বাবার হাত ধরেই পেয়েছি।”

নিয়োগ বোর্ডের সভাপতির বক্তব্য

ফরিদপুর পুলিশ ট্রেইনি কনস্টেবল পদের নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল বলেন, “পুলিশের নিয়োগে অনেক সময় নানা বিষয়ে অভিযোগ উঠলেও ফরিদপুরে প্রত্যেকেই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এটি স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।”