ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য: শুল্কছাড়ের সিদ্ধান্তে খুশি বাংলাদেশ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 157

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বিশেষ করে, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে তিনি সম্পর্ক গভীর করার ওপর জোর দেন।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

শুল্কছাড় ও বাণিজ্য ঘাটতি

অধ্যাপক ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) ৩১ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। সেদিন বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ড. ইউনূস এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, “আমরা যা পেয়েছি, তাতে আমরা খুবই আনন্দিত। এটি আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্যঘাটতি কমানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করে। এই সময় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও সয়াবিনের মতো কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে। ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, আমদানি বাড়লে আরও শুল্কছাড়ের সুযোগ তৈরি হবে এবং একটি টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে উঠবে।

বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১১ দফা শ্রম কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কাজ করছে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ এবং স্বল্প সুদে ঋণ বৃদ্ধির প্রত্যাশা করেন।

ড. ইউনূস মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলকে আশ্বাস দেন, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে তার সরকার প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি যা বললেন

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ বাংলাদেশি পক্ষের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তার সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্যঘাটতি কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা আলোচনাকে সহজ করেছে।

লিঞ্চ বলেন, “আপনারা শক্তিশালী আলোচক দল পাঠিয়েছিলেন। তারা কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।”

আলোচনায় অন্যান্য বিষয়

বৈঠকে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানি, সিভিল এয়ারক্রাফট কেনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ও রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য: শুল্কছাড়ের সিদ্ধান্তে খুশি বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৬:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বিশেষ করে, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে তিনি সম্পর্ক গভীর করার ওপর জোর দেন।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

শুল্কছাড় ও বাণিজ্য ঘাটতি

অধ্যাপক ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) ৩১ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। সেদিন বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ড. ইউনূস এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, “আমরা যা পেয়েছি, তাতে আমরা খুবই আনন্দিত। এটি আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্যঘাটতি কমানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করে। এই সময় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও সয়াবিনের মতো কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে। ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, আমদানি বাড়লে আরও শুল্কছাড়ের সুযোগ তৈরি হবে এবং একটি টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে উঠবে।

বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১১ দফা শ্রম কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কাজ করছে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ এবং স্বল্প সুদে ঋণ বৃদ্ধির প্রত্যাশা করেন।

ড. ইউনূস মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলকে আশ্বাস দেন, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে তার সরকার প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি যা বললেন

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ বাংলাদেশি পক্ষের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তার সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্যঘাটতি কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা আলোচনাকে সহজ করেছে।

লিঞ্চ বলেন, “আপনারা শক্তিশালী আলোচক দল পাঠিয়েছিলেন। তারা কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।”

আলোচনায় অন্যান্য বিষয়

বৈঠকে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানি, সিভিল এয়ারক্রাফট কেনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ও রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়।