ফরিদপুরে বিএনপি সংঘর্ষে পিস্তল হাতে কে এই যুবক?
- আপডেট সময় : ০৫:৩২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 1030
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে পিস্তলসদৃশ বস্তু প্রদর্শন করা যুবকের পরিচয় দুই দিন পরও পুলিশ শনাক্ত করতে না পারলেও স্থানীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে তার পরিচয় ফাঁস হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ও শামসুদ্দিন মিয়ার গ্রুপের সংঘর্ষের সময় এই ঘটনা ঘটে।
১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও এবং কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ওই যুবক আত্মগোপনে চলে গেছেন।
পিস্তল হাতে যুবকের পরিচয়
ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা ব্যাগ থেকে এক যুবক পিস্তলসদৃশ একটি বস্তু বের করে আবার ব্যাগে ঢুকিয়ে নিচ্ছেন।
শনাক্ত: এলাকাবাসী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ওই যুবকের নাম শাহ মো. জাকারিয়া কাজী (২৫)। তিনি বোয়ালমারীর গুনবহা ইউনিয়নের উমরনগর গ্রামের বাসিন্দা।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা: জাকারিয়া কাজী উপজেলা জিয়া প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক।
বর্তমান অবস্থা: ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই জাকারিয়া আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী এই দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে।
ক্ষয়ক্ষতি: সংঘর্ষের সময় ওয়াপদার মোড় এলাকায় শামসুদ্দিন মিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি কার্যালয়সহ বেশ কিছু দোকান ভাঙচুর ও ১০টিরও বেশি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই ঘটনায় ৩ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৩ জন আহত হন।
নাসিরুল ইসলামের দাবি: তিনি দাবি করেছেন, ভিডিওতে দেখা বস্তুটি আসল আগ্নেয়াস্ত্র নয়। তবে কারো কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকলে পুলিশ যেন ব্যবস্থা নেয়।
শামসুদ্দিন মিয়ার দাবি: তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, সংঘর্ষের সময় নাসিরুল সমর্থিত দুইজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে, কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিস্ফোরক আইনে পাল্টাপাল্টি মামলা
সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গতকাল রাতে মামলা দুটি বোয়ালমারী থানায় নথিভুক্ত করা হয়:
নাসিরুলপন্থী মামলা: উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এতে সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মো. আবু জাফরকে ২ নম্বর ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়। এই মামলায় ৩৮ জনের নাম ও ৩০০-৪০০ জন অজ্ঞাত আসামি।
শামসুদ্দিনপন্থী মামলা: সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান বাদী হয়ে অপর মামলা করেন, যেখানে খন্দকার নাসিরুলসহ ১৮৮ জনের নাম ও ২০০-২৫০ জন অজ্ঞাত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ ও আবু জাফরের বক্তব্য
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা?: বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, “ভিডিও ও ছবি আমি দেখেছি। তবে ওই ব্যক্তিটি কে, তা এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি। আগ্নেয়াস্ত্রসদৃশ বস্তু বহনকারী ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।” তিনি নিশ্চিত করেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
আবু জাফরের প্রতিক্রিয়া: মামলায় নিজের নাম যুক্ত হওয়া নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মো. আবু জাফর বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমি শুক্রবারের সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না। এই প্রচারণার (মনোনয়ন) কারণে ভীত হয়ে মামলায় আমার নাম যুক্ত করা হতে পারে।”




















