ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে জুলাই হামলার আসামি ,শেখ ফয়েজ গ্রেফতার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / 609

গত বছরের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি শেখ ফয়েজ আহম্মেদকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের আলীপুর গোলপুকুর ড্রিম শপিং কমপ্লেক্সের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা তাকে ধরে ফেলে এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে।

আটক শেখ ফয়েজ আহম্মেদ শহরের গোয়ালচামট এলাকার শেখ মানিকের ছেলে।

পলাতক আসামির বিতর্কিত কার্যকলাপ

ছাত্রনেতারা জানান, তথাকথিত সাংবাদিক শেখ ফয়েজ গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের সরাসরি বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে থেকে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় অংশ নেন।

দীর্ঘদিন পলাতক: ৫ আগস্টের পর শেখ ফয়েজ দীর্ঘদিন পালিয়ে ছিলেন। তবে চলতি মাসে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফরিদপুরের বিতর্কিত চার নেতাকে ‘ম্যানেজ’ করে শহরে ফিরে আসেন।

‘সাহসী সাংবাদিক’ পুরস্কার: জুলাই হামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি তিনি তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে কৌশলে ‘সাহসী সাংবাদিকের’ পুরস্কার গ্রহণ করেন, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

প্রকাশ্যে আগমন: বিতর্কের মধ্যেই গত ১০ নভেম্বর একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ফরিদপুর ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক জনি বিশ্বাস, জেলা এনসিপির সদস্য হায়দার মোল্লা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক তানিয়া আহম্মেদ সহ কয়েকজনের কাছ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা নিতে দেখা যায়। এই ঘটনার পরই তিনি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা শুরু করেন।

ছাত্রনেতাদের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের বক্তব্য

সোহেল রানা (সদস্য সচিব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-ফরিদপুর): তিনি বলেন, “সরকার কীভাবে এমন একজন আসামিকে পুরস্কৃত করে—আমরা হতবাক হয়ে যাই। জুলাই হামলার আসামিকে পুরস্কৃত করা জুলাইয়ে নিহতদের সঙ্গে বেইমানির শামিল।” তিনি জানান, তারা ফয়েজকে সামনে পেয়ে ধরে ফেলেন এবং পুলিশকে খবর দেন।

কাজী রিয়াজ (আহ্বায়ক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-ফরিদপুর): তিনি বলেন, “আমরা বিস্মিত হয়েছি এবং প্রতিবাদ জানিয়েছি। এরপর ফরিদপুর প্রেস ক্লাব তাকে বহিষ্কারও করেছে। এত কিছুর পরও সে প্রতিনিয়ত সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাচ্ছিল। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা সন্তুষ্ট।”

পুলিশের অবস্থান

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:

“বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর সরাসরি হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শেখ ফয়েজকে খুঁজছিল পুলিশ। পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এখন তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

স্থানীয় সাংবাদিক এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, জুলাই হামলার আসামিকে নিয়ে চার সমন্বয়কের এ কর্মকাণ্ড শহরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং এটি জুলাই আন্দোলনের পক্ষশক্তিকে বিব্রত করেছে।

ফরিদপুরে জুলাই হামলার আসামি ,শেখ ফয়েজ গ্রেফতার

আপডেট সময় : ১১:১৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

গত বছরের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি শেখ ফয়েজ আহম্মেদকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের আলীপুর গোলপুকুর ড্রিম শপিং কমপ্লেক্সের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা তাকে ধরে ফেলে এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে।

আটক শেখ ফয়েজ আহম্মেদ শহরের গোয়ালচামট এলাকার শেখ মানিকের ছেলে।

পলাতক আসামির বিতর্কিত কার্যকলাপ

ছাত্রনেতারা জানান, তথাকথিত সাংবাদিক শেখ ফয়েজ গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের সরাসরি বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে থেকে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় অংশ নেন।

দীর্ঘদিন পলাতক: ৫ আগস্টের পর শেখ ফয়েজ দীর্ঘদিন পালিয়ে ছিলেন। তবে চলতি মাসে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফরিদপুরের বিতর্কিত চার নেতাকে ‘ম্যানেজ’ করে শহরে ফিরে আসেন।

‘সাহসী সাংবাদিক’ পুরস্কার: জুলাই হামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি তিনি তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে কৌশলে ‘সাহসী সাংবাদিকের’ পুরস্কার গ্রহণ করেন, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

প্রকাশ্যে আগমন: বিতর্কের মধ্যেই গত ১০ নভেম্বর একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ফরিদপুর ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক জনি বিশ্বাস, জেলা এনসিপির সদস্য হায়দার মোল্লা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক তানিয়া আহম্মেদ সহ কয়েকজনের কাছ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা নিতে দেখা যায়। এই ঘটনার পরই তিনি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা শুরু করেন।

ছাত্রনেতাদের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের বক্তব্য

সোহেল রানা (সদস্য সচিব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-ফরিদপুর): তিনি বলেন, “সরকার কীভাবে এমন একজন আসামিকে পুরস্কৃত করে—আমরা হতবাক হয়ে যাই। জুলাই হামলার আসামিকে পুরস্কৃত করা জুলাইয়ে নিহতদের সঙ্গে বেইমানির শামিল।” তিনি জানান, তারা ফয়েজকে সামনে পেয়ে ধরে ফেলেন এবং পুলিশকে খবর দেন।

কাজী রিয়াজ (আহ্বায়ক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-ফরিদপুর): তিনি বলেন, “আমরা বিস্মিত হয়েছি এবং প্রতিবাদ জানিয়েছি। এরপর ফরিদপুর প্রেস ক্লাব তাকে বহিষ্কারও করেছে। এত কিছুর পরও সে প্রতিনিয়ত সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাচ্ছিল। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা সন্তুষ্ট।”

পুলিশের অবস্থান

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:

“বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর সরাসরি হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শেখ ফয়েজকে খুঁজছিল পুলিশ। পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এখন তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

স্থানীয় সাংবাদিক এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, জুলাই হামলার আসামিকে নিয়ে চার সমন্বয়কের এ কর্মকাণ্ড শহরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং এটি জুলাই আন্দোলনের পক্ষশক্তিকে বিব্রত করেছে।