ঢাকা ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী সহকর্মীকে অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়ে বেকায়দায় ডিআইজি

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:১৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 587

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সদ্য সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে এক নারী সহকর্মীকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে অশ্লীল ও আপত্তিকর ভিডিও ক্লিপ এবং বার্তা পাঠানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গত ২৪ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ডিআইজি আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগনামা জারির পরপরই তাঁকে আরএমপি কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে ডিআইজি (অপদস্থ) পদে বদলি করা হয়।

অভিযোগের বিস্তারিত

ডিআইজি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা এবং অভিযোগকারী নারী কর্মকর্তা ৩৫তম ব্যাচের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। দুজনই আগে ট্যুরিস্ট পুলিশে কর্মরত ছিলেন।

ভিডিও পাঠানোর অভিযোগ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, ডিআইজি আবু সুফিয়ান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ওই নারী কর্মকর্তাকে একটি আপত্তিকর ও অশ্লীল ভিডিও ক্লিপ পাঠান।

ফরেনসিক প্রমাণ: অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে যে, ডিআইজি আবু সুফিয়ান পরে সেসব আপত্তিকর মেসেজিং ও অশ্লীল ভিডিও মুছেও ফেলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ ও অভিযোগনামা

নারী কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

অভিযোগনামা: অভিযোগনামায় বলা হয়, ডিআইজি আবু সুফিয়ান একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে জুনিয়র নারী সহকর্মীকে অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়ে চরম অপেশাদারিত্ব, অকর্মকর্তাসুলভ এবং নৈতিকতা বিবর্জিত কার্যকলাপ করেছেন। তাঁর এই আচরণ পুলিশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে, যা সরকারি চাকরি বিধিমালা (শৃঙ্খলা ও আপিল) ২০১৮ অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

লিখিত জবাব তলব: অভিযোগনামা প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কেন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড দেওয়া হবে না, তার লিখিত ব্যাখ্যা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যক্তিগত শুনানির ইচ্ছা পোষণ করেন কি না, তা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উভয় পক্ষের বক্তব্য

অভিযুক্তের দাবি: ডিআইজি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান চিঠির সত্যতা স্বীকার করে দাবি করেন, ওই নারী কর্মকর্তার মেসেঞ্জার থেকেই তাঁর কাছে প্রথমে ‘অসংগতিপূর্ণ’ একটি ভিডিও এসেছিল। তিনি সেটি রি-সেন্ড করে জানতে চেয়েছিলেন, কেন এমন ভিডিও পাঠানো হলো। তাঁর দাবি, ঘটনাটি একবারই ঘটেছে এবং তিনি পরে মুছে দেন, আর সেটি সম্ভবত ফেক আইডি থেকে এসেছিল।

ভুক্তভোগীর জবাব: ঘটনার শিকার নারী কর্মকর্তা সেই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি ওই কর্মকর্তাকে চিনতেন না। আরএমপি কমিশনারের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি একতরফাভাবে আপত্তিকর ও অসংলগ্ন বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। যখন বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন তিনি বিভাগীয় নিয়ম অনুসরণ করে কর্তৃপক্ষকে জানান।

নারী সহকর্মীকে অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়ে বেকায়দায় ডিআইজি

আপডেট সময় : ০৮:১৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সদ্য সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে এক নারী সহকর্মীকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে অশ্লীল ও আপত্তিকর ভিডিও ক্লিপ এবং বার্তা পাঠানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গত ২৪ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ডিআইজি আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগনামা জারির পরপরই তাঁকে আরএমপি কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে ডিআইজি (অপদস্থ) পদে বদলি করা হয়।

অভিযোগের বিস্তারিত

ডিআইজি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা এবং অভিযোগকারী নারী কর্মকর্তা ৩৫তম ব্যাচের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। দুজনই আগে ট্যুরিস্ট পুলিশে কর্মরত ছিলেন।

ভিডিও পাঠানোর অভিযোগ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, ডিআইজি আবু সুফিয়ান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ওই নারী কর্মকর্তাকে একটি আপত্তিকর ও অশ্লীল ভিডিও ক্লিপ পাঠান।

ফরেনসিক প্রমাণ: অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে যে, ডিআইজি আবু সুফিয়ান পরে সেসব আপত্তিকর মেসেজিং ও অশ্লীল ভিডিও মুছেও ফেলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ ও অভিযোগনামা

নারী কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

অভিযোগনামা: অভিযোগনামায় বলা হয়, ডিআইজি আবু সুফিয়ান একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে জুনিয়র নারী সহকর্মীকে অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়ে চরম অপেশাদারিত্ব, অকর্মকর্তাসুলভ এবং নৈতিকতা বিবর্জিত কার্যকলাপ করেছেন। তাঁর এই আচরণ পুলিশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে, যা সরকারি চাকরি বিধিমালা (শৃঙ্খলা ও আপিল) ২০১৮ অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

লিখিত জবাব তলব: অভিযোগনামা প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কেন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড দেওয়া হবে না, তার লিখিত ব্যাখ্যা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যক্তিগত শুনানির ইচ্ছা পোষণ করেন কি না, তা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উভয় পক্ষের বক্তব্য

অভিযুক্তের দাবি: ডিআইজি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান চিঠির সত্যতা স্বীকার করে দাবি করেন, ওই নারী কর্মকর্তার মেসেঞ্জার থেকেই তাঁর কাছে প্রথমে ‘অসংগতিপূর্ণ’ একটি ভিডিও এসেছিল। তিনি সেটি রি-সেন্ড করে জানতে চেয়েছিলেন, কেন এমন ভিডিও পাঠানো হলো। তাঁর দাবি, ঘটনাটি একবারই ঘটেছে এবং তিনি পরে মুছে দেন, আর সেটি সম্ভবত ফেক আইডি থেকে এসেছিল।

ভুক্তভোগীর জবাব: ঘটনার শিকার নারী কর্মকর্তা সেই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি ওই কর্মকর্তাকে চিনতেন না। আরএমপি কমিশনারের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি একতরফাভাবে আপত্তিকর ও অসংলগ্ন বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। যখন বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন তিনি বিভাগীয় নিয়ম অনুসরণ করে কর্তৃপক্ষকে জানান।