ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ৭৫ বছরের রাজলক্ষ্মী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 263

আধুনিক যুগেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার খরসুতি গ্রামের রাজলক্ষ্মী কর্মকারের (৭৫) জীবনে। চার ছেলে ও তিন মেয়ের জননী হয়েও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম দারিদ্র্য আর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন এই বৃদ্ধা। ঝুপড়ি ঘরে অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটছে তাঁর খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী পরিবারের।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণ এক ঝুপড়ি ঘরে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে আছেন রাজলক্ষ্মী। পাশের আরেকটি ঝুপড়ি ঘরে বাস করেন তাঁর ছোট ছেলে ও পরিবার। বৃষ্টি এলে ঘর দিয়ে পানি পড়ে, আর তখন নাতি-পুতিদের নিয়ে যীশুর কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না তাঁদের।

আক্ষেপ ও বঞ্চনার গল্প: কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাজলক্ষ্মী কর্মকার বলেন, “৪০ বছর ধরে এই গ্রামে বাস করছি। শেষ বয়সে এসে এমন চরম অভাব অনটনে পড়তে হবে ভাবিনি। সরকার কোনো ভাতা দেয় না, জনপ্রতিনিধিরাও খোঁজ নেয় না। শরীরে রোগ বাসা বেঁধেছে, কিন্তু ওষুধ কেনার টাকা নেই।” পরিবারটি এখনও বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

স্থানীয়দের ভাষ্য: এলাকাবাসী জানান, পুরো উপজেলায় সম্ভবত রাজলক্ষ্মীর পরিবারটিই সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে। সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা না পেলে পরিবারটির টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) ইমদাদুল জানান, রাজলক্ষ্মীর ছেলেরা নিয়মিত কাজ না করায় অভাব লেগেই থাকে। তবে তিনি দ্রুত ওই বৃদ্ধার জন্য একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

১০ নং ময়না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ. হক বলেন, “আমি দ্রুত খোঁজ নিয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। রাজলক্ষ্মীর জন্য সবসময় আমার সহযোগিতার হাত খোলা থাকবে।”

স্বচ্ছলতার মুখ না দেখা এই পরিবারের করুণ দশা কাটাতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ফরিদপুরে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ৭৫ বছরের রাজলক্ষ্মী

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

আধুনিক যুগেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার খরসুতি গ্রামের রাজলক্ষ্মী কর্মকারের (৭৫) জীবনে। চার ছেলে ও তিন মেয়ের জননী হয়েও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম দারিদ্র্য আর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন এই বৃদ্ধা। ঝুপড়ি ঘরে অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটছে তাঁর খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী পরিবারের।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণ এক ঝুপড়ি ঘরে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে আছেন রাজলক্ষ্মী। পাশের আরেকটি ঝুপড়ি ঘরে বাস করেন তাঁর ছোট ছেলে ও পরিবার। বৃষ্টি এলে ঘর দিয়ে পানি পড়ে, আর তখন নাতি-পুতিদের নিয়ে যীশুর কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না তাঁদের।

আক্ষেপ ও বঞ্চনার গল্প: কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাজলক্ষ্মী কর্মকার বলেন, “৪০ বছর ধরে এই গ্রামে বাস করছি। শেষ বয়সে এসে এমন চরম অভাব অনটনে পড়তে হবে ভাবিনি। সরকার কোনো ভাতা দেয় না, জনপ্রতিনিধিরাও খোঁজ নেয় না। শরীরে রোগ বাসা বেঁধেছে, কিন্তু ওষুধ কেনার টাকা নেই।” পরিবারটি এখনও বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

স্থানীয়দের ভাষ্য: এলাকাবাসী জানান, পুরো উপজেলায় সম্ভবত রাজলক্ষ্মীর পরিবারটিই সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে। সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা না পেলে পরিবারটির টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) ইমদাদুল জানান, রাজলক্ষ্মীর ছেলেরা নিয়মিত কাজ না করায় অভাব লেগেই থাকে। তবে তিনি দ্রুত ওই বৃদ্ধার জন্য একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

১০ নং ময়না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ. হক বলেন, “আমি দ্রুত খোঁজ নিয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। রাজলক্ষ্মীর জন্য সবসময় আমার সহযোগিতার হাত খোলা থাকবে।”

স্বচ্ছলতার মুখ না দেখা এই পরিবারের করুণ দশা কাটাতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।