ফরিদপুরসহ ৬ অঞ্চলে সেনা মোতায়েন, মাঠে নামছে বিশেষ দল
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
- / 67
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ৬টি জেলা ও অঞ্চলে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২২ জুন) থেকে শুরু হওয়া এই সেনা মোতায়েন আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে কার্যকর থাকবে।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি চিঠিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
যে কারণে সেনা মোতায়েন:
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অন্যান্য সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন এবং নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষার লক্ষ্যে ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের’ আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকায় বিশেষ সতর্কতা:
এদিকে আগামীকাল ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুরো ঢাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষ এই দিনটি উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে ২০০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে পুলিশের বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করা হবে। একই সাথে ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগরের সবকটি প্রবেশপথে কড়া চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার থাকবে, যাতে কোনো বহিরাগত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও নিটোল করতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় থাকবে ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিটসমূহ। এর মধ্যে ডিবি (গোয়েন্দা শাখা) এবং সিটিটিসি (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) ইউনিট সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের আগাম নাশকতা রুখে দিতে সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ব্যাপক গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য মহানগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) এবং ৪টি প্রধান কন্ট্রোলরুমে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফোর্স রিজার্ভ রাখা হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির ১৮ হাজারেরও বেশি অফিসার ও ফোর্স মাঠে থেকে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করবে। স্বয়ং ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরেজমিনে মাঠে উপস্থিত থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ডিউটি তদারকি করবেন।
























