ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে আ.লীগ নেতার হুমকি: সরাতে হবে ওসমান হাদির মরদেহ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:১১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 952

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফরিদপুরের এক আওয়ামী লীগ নেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার দেওয়া বিতর্কিত পোস্টটি ঘিরে জেলাজুড়ে ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান শিপলু তার ব্যক্তিগত আইডিতে এই পোস্ট দেন। পরে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় তিনি পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন।

ফেসবুক পোস্টে যা ছিল

মতিউর রহমান শিপলু তার পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ওসমান হাদির দাফন নিয়ে আপত্তি তোলেন এবং মরদেহ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে গেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ তার কঠোর সমালোচনা শুরু করেন।

‘ভুল বুঝতে পেরে ডিলিট করেছি’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিউর রহমান শিপলু নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন:

“আমি ওসমান হাদিকে নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। পরে বুঝতে পেরেছি এটি করা ঠিক হয়নি, তাই ডিলিট করে দিয়েছি। এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।”

ছাত্র আন্দোলনের তীব্র নিন্দা

শরীফ ওসমান হাদির প্রতি এমন অবমাননাকর দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ বলেন:

“ওসমান হাদি শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি আদর্শের প্রতীক। জাতীয় কবির সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে। এমন একজন দেশপ্রেমিকের মরদেহ সরানোর দাবি চরম ধৃষ্টতা ও অশ্রদ্ধার পরিচয়।”

কে এই শরীফ ওসমান হাদি?

২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শহিদদের অধিকার রক্ষা এবং আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে তার সাহসী ভূমিকা তরুণ প্রজন্মের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তোলে।

রাজনৈতিক মহলে অস্বস্তি

শিপলুর এই মন্তব্যকে তার ব্যক্তিগত বিষয় বলে অনেকে এড়িয়ে যেতে চাইলেও, স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ মনে করছে এটি দলের ভাবমূর্তির পরিপন্থী। বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন, নতুবা সংবেদনশীল ইস্যুতে এমন অসংযত মন্তব্য সমাজে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি করতে পারে।

ফরিদপুরে আ.লীগ নেতার হুমকি: সরাতে হবে ওসমান হাদির মরদেহ

আপডেট সময় : ১১:১১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফরিদপুরের এক আওয়ামী লীগ নেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার দেওয়া বিতর্কিত পোস্টটি ঘিরে জেলাজুড়ে ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান শিপলু তার ব্যক্তিগত আইডিতে এই পোস্ট দেন। পরে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় তিনি পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন।

ফেসবুক পোস্টে যা ছিল

মতিউর রহমান শিপলু তার পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ওসমান হাদির দাফন নিয়ে আপত্তি তোলেন এবং মরদেহ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে গেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ তার কঠোর সমালোচনা শুরু করেন।

‘ভুল বুঝতে পেরে ডিলিট করেছি’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিউর রহমান শিপলু নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন:

“আমি ওসমান হাদিকে নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। পরে বুঝতে পেরেছি এটি করা ঠিক হয়নি, তাই ডিলিট করে দিয়েছি। এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।”

ছাত্র আন্দোলনের তীব্র নিন্দা

শরীফ ওসমান হাদির প্রতি এমন অবমাননাকর দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ বলেন:

“ওসমান হাদি শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি আদর্শের প্রতীক। জাতীয় কবির সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে। এমন একজন দেশপ্রেমিকের মরদেহ সরানোর দাবি চরম ধৃষ্টতা ও অশ্রদ্ধার পরিচয়।”

কে এই শরীফ ওসমান হাদি?

২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শহিদদের অধিকার রক্ষা এবং আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে তার সাহসী ভূমিকা তরুণ প্রজন্মের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তোলে।

রাজনৈতিক মহলে অস্বস্তি

শিপলুর এই মন্তব্যকে তার ব্যক্তিগত বিষয় বলে অনেকে এড়িয়ে যেতে চাইলেও, স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ মনে করছে এটি দলের ভাবমূর্তির পরিপন্থী। বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন, নতুবা সংবেদনশীল ইস্যুতে এমন অসংযত মন্তব্য সমাজে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি করতে পারে।