ফরিদপুরে কাস্টমস সিপাহীর ভ্যাট আতঙ্ক: চাঁদা না দিলে মামলার হুমকি
- আপডেট সময় : ০৪:২৩:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 370
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর বাজারে এক ব্যবসায়ীর কাছে ভ্যাট বকেয়ার ভয় দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের এক সিপাহীর বিরুদ্ধে। টাকা না দিলে ৫-৭ লাখ টাকার মামলা দেওয়ার হুমকির মুখে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এই ঘটনায় ওই সিপাহীর বিরুদ্ধে সাতটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মুস্তাইন শাহ মামুন। তিনি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগে সিপাহী হিসেবে কর্মরত।
যেভাবে শুরু হয় ‘ভ্যাট আতঙ্ক’
ভুক্তভোগী ‘পাভেল কসমেটিকস অ্যান্ড ক্রোকারিজ’-এর মালিক প্রান্ত সাহা জানান, সিপাহী মুস্তাইন শাহ মামুন হঠাৎ তার দোকানে এসে বলেন, “তোমাদের অনেক ভ্যাট বাকি। ৩০ হাজার টাকা দিলে সব মিটিয়ে দেবো, নইলে ৫-৭ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা হবে।”
ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রান্ত সাহা বলেন, “আমাদের ছোট দোকান, এখানে আবার কিসের লাখ লাখ টাকার ভ্যাট? হঠাৎ এমন হুমকি শুনে আমি দিশেহারা হয়ে পড়ি।”
টাকা না পেয়ে মামলা দেওয়ার আলটিমেটাম
অভিযোগে জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে টাকা দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন ওই সিপাহী। নির্ধারিত দিনে তিনি পুনরায় দোকানে এসে টাকার জন্য চাপ দেন। চরম আতঙ্কে প্রান্ত সাহা তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তাকে ৫ হাজার টাকা দিতে চাইলেও তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন এবং কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন।
বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নজরে এলে তারা অভিযুক্তকে আটকে রাখেন। পরে বোয়ালমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে ফরিদপুরে পাঠিয়ে দেয়।
অভিযুক্ত ও প্রশাসনের বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বাজারের লোকজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা দোকান মালিককে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”
তবে অভিযুক্ত সিপাহী মুস্তাইন শাহ মামুন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “দোকানে অনেক ভেজাল ছিল। তারা আমাকে ৫ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি নেইনি। আমাকে ফাঁসানোর জন্য এসব বলা হচ্ছে।”
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান জানান, “লিখিত অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন কাজ করা দণ্ডনীয় অপরাধ।”




















