ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে প্রভাতী হাসপাতালে: মেয়াদহীন লাইসেন্স, প্যাথলজি সিলগালা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:০৩:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 129

ফরিদপুর শহরের প্রভাতী (প্রাঃ) হাসপাতালে গলায় টিউমার অপারেশনের পর কিশোরী মিমের (১৫) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হাসপাতালটির প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা এবং অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের বিবরণ:

দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুর রহমান ও নুঝাত তাবাসসুম। অভিযানে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. জ্যোতির্ময় চৌধুরী এবং জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. বজলুর রশীদ খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাওয়া গেল ভয়াবহ অনিয়ম:

অভিযানকালে দেখা যায়, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং সেখানে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্যাথলজি বিভাগে গুরুতর অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, হাসপাতালটির লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২৩-২৪ সালে শেষ হয়ে গেলেও তা নবায়ন করা হয়নি। এসব অভিযোগে জনস্বার্থে প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা এবং ওটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুঝাত তাবাসসুম।

প্রেক্ষাপট:

উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল গলায় টিউমার অপারেশন করতে গিয়ে চিকিৎসকের অবহেলায় মিম নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি ছিল, ইএনটি স্পেশালিস্টের পরিবর্তে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকের মাধ্যমে অপারেশন করানোর সময় গলার রক্তনালী কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মিমের মৃত্যু হয়।

সিভিল সার্জনের বক্তব্য:

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে এবং আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করেছি। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এই প্রভাতী হাসপাতালটি একবার সিলগালা করা হয়েছিল। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ফরিদপুরে প্রভাতী হাসপাতালে: মেয়াদহীন লাইসেন্স, প্যাথলজি সিলগালা

আপডেট সময় : ০৫:০৩:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুর শহরের প্রভাতী (প্রাঃ) হাসপাতালে গলায় টিউমার অপারেশনের পর কিশোরী মিমের (১৫) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হাসপাতালটির প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা এবং অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের বিবরণ:

দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুর রহমান ও নুঝাত তাবাসসুম। অভিযানে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. জ্যোতির্ময় চৌধুরী এবং জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. বজলুর রশীদ খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাওয়া গেল ভয়াবহ অনিয়ম:

অভিযানকালে দেখা যায়, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং সেখানে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্যাথলজি বিভাগে গুরুতর অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, হাসপাতালটির লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২৩-২৪ সালে শেষ হয়ে গেলেও তা নবায়ন করা হয়নি। এসব অভিযোগে জনস্বার্থে প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা এবং ওটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুঝাত তাবাসসুম।

প্রেক্ষাপট:

উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল গলায় টিউমার অপারেশন করতে গিয়ে চিকিৎসকের অবহেলায় মিম নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি ছিল, ইএনটি স্পেশালিস্টের পরিবর্তে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকের মাধ্যমে অপারেশন করানোর সময় গলার রক্তনালী কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মিমের মৃত্যু হয়।

সিভিল সার্জনের বক্তব্য:

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে এবং আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করেছি। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এই প্রভাতী হাসপাতালটি একবার সিলগালা করা হয়েছিল। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।