যৌনপল্লীতে মাদকের কারবার: পদ হারালেন শ্রমিক দল নেতা
- আপডেট সময় : ০৯:২৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 140
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিয়ার ব্যবসার কথা স্বীকার করে ভাইরাল হওয়া সেই শ্রমিক দল নেতা সুমন মোল্লাকে দলীয় সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে এই অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অব্যাহতির কারণ:
অব্যাহতি পত্রে উল্লেখ করা হয়, গোয়ালন্দ উপজেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি সুমন মোল্লা দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিয়ার ব্যবসার কথা নিজ মুখে স্বীকার করেছেন। তার এই স্বীকারোক্তি সম্বলিত অডিও ক্লিপ স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে (ভাইরাল হয়)। এতে সাধারণ জনগণ ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত:
উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার রাতে দৌলতদিয়া ঘাটে সংগঠনের কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সুমন মোল্লাকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যেভাবে ফাঁস হয় ঘটনা:
গত ২৬ এপ্রিল (রোববার) থেকে সুমন মোল্লা ও জনৈক আইনজীবী মো. মকিম মন্ডলের একটি কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। সেখানে সুমন মোল্লা যৌনপল্লীতে নিজের বিয়ার ব্যবসার কথা অকপটে স্বীকার করেন এবং জানান তার সাথে আরও তিনজন সহযোগী রয়েছে। এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে তাকে গ্রেপ্তার ও দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
অভিযোগের পাহাড়:
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে দখলবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে সুমনের নেতৃত্বাধীন একটি চক্র। দলের নাম ভাঙিয়ে বিচার-সালিশের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে যৌনপল্লীর বাসিন্দারা।



















