দেশের জন্য সতর্কবার্তা: দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ
- আপডেট সময় : ১২:৪৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
- / 751
বাংলাদেশে বছরে মোট বজ্রপাতের মধ্যে ৩৮ শতাংশ ঘটে মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে এবং ৫১ শতাংশ হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে। তবে অন্যান্য মাসের তুলনায় মে মাসে হওয়া বজ্রপাতগুলো সবচেয়ে তীব্র ও ভয়াবহ রূপ নেয়। জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর প্রকোপ আরও বেড়েছে।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ব্র্যাক ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বজ্রপাত প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাস’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় এসব তথ্য ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের মতামত:
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তাফা বলেন, “তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েছে। বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় কৃষকের। এরপর স্কুলের শিক্ষার্থী ও নারীরা। মৃত্যু কমিয়ে আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তর নিখুঁতভাবে পাঁচ দিনের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। তবে সেই অনুযায়ী ‘আর্লি অ্যাকশন’ বা দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রাণহানি ঠেকানো যাচ্ছে না। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে মৃত্যুহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব।
আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে বলেন, “মে মাসে ঘটা বজ্রপাতগুলোর তাণ্ডব ও ভয়াবহতা বেশি, কারণ এ মাসের বজ্রঝড়গুলো তীব্র কালবৈশাখীর রূপ নেয়। বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় এবং ঘরের ভেতরে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।”
কর্মশালার উপস্থিতি ও আলোচনা:
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তাফা ও ব্র্যাকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক লেয়াকত আলী।
এছাড়াও প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম কামরুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাতিমা আক্তার, বুয়েটের অধ্যাপক ড. তানভীর মঞ্জুর এবং সিপিআরডি-এর প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা। কর্মশালায় ব্র্যাক, ইউএনডিপি ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা ঝুঁকিরোধে নিজেদের কার্যক্রম তুলে ধরেন।



















