অনলাইনে হাজিরা দিতে গিয়ে আমগাছের মগডালে প্রধান শিক্ষক
- আপডেট সময় : ১১:২৭:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- / 57
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইনে হাজিরা দিতে গিয়ে নেটওয়ার্কের খোঁজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের চূড়ার এক আমগাছে উঠে অবস্থান নিয়েছেন এক প্রধান শিক্ষক। রাঙামাটি জেলার সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহেরের এই চাঞ্চল্যকর ছবি সোমবার (১৫ জুন) বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
দেশজুড়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইনে হাজিরা দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা সোমবার (১৫ জুন) থেকেই কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে স্কুলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের হাজিরা খাতার ছবি অনলাইনে (হোয়াটসঅ্যাপে) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।
পাহাড়ের চূড়া থেকে আমগাছের ডালে:
প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, তাঁর স্কুলটি পাহাড়ের প্রায় তিন-চার শ ফুট নিচে অবস্থিত। সকালে স্কুলে এসে ছাদ থেকে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানোর চেষ্টা করলেও কোনো নেটওয়ার্ক পাননি। এরপর নেটওয়ার্কের খোঁজে তিনি ৩-৪ শত ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় ওঠেন। কিন্তু সেখানেও মোবাইল নেটওয়ার্ক না পেয়ে, শেষ পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি আমগাছের মগডালে ওঠেন। সেখান থেকে কোনো রকম একটু নেটওয়ার্ক পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা খাতার ছবি পাঠাতে সক্ষম হন তিনি।
প্রধান শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, “চাকরি বাঁচাতে ও পরিবারের জীবনযাত্রা সচল রাখতে বাধ্য হয়েই এই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাকে গাছে উঠতে হয়েছে।”
পাহাড়ের বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন:
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৮টি স্কুলের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। তবে চরম নেটওয়ার্ক সংকটের কারণে ২৮টি স্কুলের ৮৩ জন শিক্ষকের অনলাইন হাজিরা পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, “সমতলের শিক্ষকেরা অনলাইন হাজিরা সহজে দিতে পারলেও পাহাড়ি এলাকায় এটি অনেক কঠিন। রাঙামাটি জেলার অনেক জায়গায় এখনো মোবাইল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি বিদ্যুৎও পৌঁছায়নি। এমনকি জেলা সদরের অনেক এলাকাতেও ঠিকমতো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।” তিনি পাহাড়ি এলাকার এই কঠিন বাস্তবতার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর অনুরোধ জানান।
পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা:
রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার মোট ৭০৮টি স্কুলের মধ্যে প্রথম দিন সোমবার ৫৩৮টি স্কুলের শিক্ষক হাজিরার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ১৭০টি স্কুল সম্পূর্ণ মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তাদের কোনো তথ্য মেলেনি।
রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) কফিল উদ্দিন বলেন, আপাতত নির্দেশনা অনুযায়ী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেসব এলাকা নেটওয়ার্কের বাইরে আছে, সেই সব দুর্গম এলাকার তালিকা ঢাকায় পাঠানো হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















