ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি: বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:০৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / 62

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এক বালু ব্যবসায়ীর কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি দিয়েছে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা। পরে ‘ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না’ মর্মে লিখিত মুচলেকা দিয়ে ওই দুই নেতা মুক্তি পান। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান জাকির মোল্লা একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বালু ব্যবসায়ী ও ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. জহিরুল ইসলামের কাছে বালুর ব্যবসা পরিচালনার জন্য ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এই চাঁদার বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই উভয়ের মধ্যে টানাপোড়েন ও আলোচনা চলছিল।

টাকা নিতে গিয়েই জনতা ঘেরাও:

গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে বালু ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম টাকা দেওয়ার কথা বলে বিএনপি নেতা জাকির মোল্লাকে চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় আসতে বলেন। নির্ধারিত সময়ে জাকির মোল্লা তাঁর সহযোগী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লাকে সাথে নিয়ে টাকা নিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা স্থানীয় লোকজন তাঁদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে অবরুদ্ধ করার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা জাকির মোল্লা ও তাঁর সহযোগীকে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখেন। পরবর্তীতে রাত বাড়লে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সালিশ-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং তারা মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান।

দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির অভিযোগ:

এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে জানান, বিএনপি নেতা জাকির মোল্লার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার, বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি, খালের সরকারি মাটি কেটে বিক্রি, সালিশ-বৈঠকের নামে অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর বহু অভিযোগ রয়েছে।

তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির মোল্লা দাবি করেছেন, “আমি কোনো চাঁদা দাবি করিনি। বালুর ব্যবসাটি যৌথভাবে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে করার জন্য একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সেই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে সাজিয়ে রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।”

দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস:

এই বিষয়ে চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন পরিষ্কার জানিয়ে দেন, “বিএনপি কখনো চাঁদাবাজি কিংবা কোনো চাঁদাবাজকে প্রশ্রয় দেয় না। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি এ ধরনের অপকর্মে জড়িত থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান জানান, তিনি বর্তমানে সাংগঠনিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন বিধায় ঘটনাটি বিস্তারিত জানেন না। তবে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি: বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি

আপডেট সময় : ০৪:০৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এক বালু ব্যবসায়ীর কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি দিয়েছে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা। পরে ‘ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না’ মর্মে লিখিত মুচলেকা দিয়ে ওই দুই নেতা মুক্তি পান। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান জাকির মোল্লা একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বালু ব্যবসায়ী ও ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. জহিরুল ইসলামের কাছে বালুর ব্যবসা পরিচালনার জন্য ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এই চাঁদার বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই উভয়ের মধ্যে টানাপোড়েন ও আলোচনা চলছিল।

টাকা নিতে গিয়েই জনতা ঘেরাও:

গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে বালু ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম টাকা দেওয়ার কথা বলে বিএনপি নেতা জাকির মোল্লাকে চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় আসতে বলেন। নির্ধারিত সময়ে জাকির মোল্লা তাঁর সহযোগী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লাকে সাথে নিয়ে টাকা নিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা স্থানীয় লোকজন তাঁদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে অবরুদ্ধ করার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা জাকির মোল্লা ও তাঁর সহযোগীকে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখেন। পরবর্তীতে রাত বাড়লে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সালিশ-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং তারা মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান।

দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির অভিযোগ:

এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে জানান, বিএনপি নেতা জাকির মোল্লার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার, বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি, খালের সরকারি মাটি কেটে বিক্রি, সালিশ-বৈঠকের নামে অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর বহু অভিযোগ রয়েছে।

তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির মোল্লা দাবি করেছেন, “আমি কোনো চাঁদা দাবি করিনি। বালুর ব্যবসাটি যৌথভাবে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে করার জন্য একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সেই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে সাজিয়ে রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।”

দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস:

এই বিষয়ে চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন পরিষ্কার জানিয়ে দেন, “বিএনপি কখনো চাঁদাবাজি কিংবা কোনো চাঁদাবাজকে প্রশ্রয় দেয় না। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি এ ধরনের অপকর্মে জড়িত থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান জানান, তিনি বর্তমানে সাংগঠনিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন বিধায় ঘটনাটি বিস্তারিত জানেন না। তবে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।