হাসপাতাল থেকে সোজা কারাগারে আলোচিত শিবির নেতা জিসান
- আপডেট সময় : ১২:৫১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / 53
কুমিল্লায় পরকীয়া প্রেম ও পরবর্তীতে অপহরণের নাটক সাজিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করা ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত নেতা জিসান প্রধানকে অবশেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের বিশেষ মেডিকেল বোর্ড তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ ঘোষণা করে ছাড়পত্র দেওয়ার পর পুলিশ তাঁকে আদালতে সোপর্দ করে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জিসানকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে তোলা হয়। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৩-এর বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ জিসান মিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্ক ও মেডিকেল বোর্ড:
এর আগে জিসানের কথিত অসুস্থতা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে পুরো কুমিল্লাজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। এই পরিস্থিতি ও বিতর্ক এড়াতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। বোর্ডের সদস্যরা জিসানের বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলে রায় দেন।
কুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান বলেন, “মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে জিসানকে সুস্থ ঘোষণা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার তাঁকে হাসপাতাল থেকে আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র দেওয়া হয়।”
আদালতে আনা নিয়ে নাটকীয়তার অভিযোগ:
এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “জিসানকে আদালতে সোপর্দ করার ক্ষেত্রে পুলিশ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হাসপাতাল থেকে আদালতে আনার বিষয়ে এক ধরনের নাটকীয়তা করা হয়েছে। পরে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে তাকে নিয়মিত কাস্টডিতে না নিয়ে সরাসরি বিচারকের খাস কামরায় ঢোকানো হয়। আমরা আদালতে তাঁর জামিন আবেদন করেছিলাম, কিন্তু বিচারক তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।”
যে কারণে আলোচনায় জিসান প্রধান:
উল্লেখ্য, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান প্রধান কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক নারীর সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে। একপর্যায়ে ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি বাঁচতে নিজের ‘অপহরণের নাটক’ সাজিয়ে দেশব্যাপী তুমুল আলোচনার জন্ম দেন। এই কেলেঙ্কারির ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কমিটি জিসানকে দলীয় পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে জিসান প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে একটি গুরুতর মামলা দায়ের করেন।



















