ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিত্যক্ত কূপে নেমে প্রাণ গেল বাবা-ছেলেসহ চারজনের

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • / 120

টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যাওয়া ছাগল ছানা তুলতে গিয়ে দম আটকে বাবা-ছেলেসহ গারো নৃ-গোষ্ঠীর ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) সকাল ৮টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর বনাঞ্চলের টেলকি এলাকায় এই কলিজা কাঁপানো দুর্ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অক্সিজেনহীন ওই কূপ থেকে একে একে চারজনের লাশ উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন— টেলকি গ্রামের বাবুল হাদিমা (৪০), তার ১২ বছরের ছেলে নেইমার ম্রং, এলাকার জামাই গাব্রিয়াল (৪০) এবং প্রতিবেশী রতন নকরেক (২৭)। তারা সবাই স্থানীয় গারো সম্প্রদায়ের বাসিন্দা।

ছাগল বাঁচাতে গিয়ে যেভাবে ঘটল ট্র্যাজেডি:

মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য লাল মিয়াসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বাবুল হাদিমার একটি ছাগল ছানা টেলকি বাজারের উত্তর-পশ্চিমের মসজিদ এলাকার একটি গভীর পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায়। প্রিয় ছাগল ছানাটিকে উদ্ধার করতে প্রথমে কূপে নামে শিশু নেইমার।

বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও নেইমারের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে উদ্বিগ্ন বাবা বাবুল হাদিমা ছেলেকে বাঁচাতে কূপে নামেন। একইভাবে তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে পর্যায়ক্রমে গাব্রিয়াল এবং শেষে প্রতিবেশী রতন নকরেকও কূপে প্রবেশ করেন। একে একে কূপে নামা চারজনের কারও সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা চিৎকার ও ডাকাডাকি শুরু করে। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেয়।

অক্সিজেনহীন কূপ থেকে লাশ উদ্ধার:

মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী স্টেশন কর্মকর্তা লাভলু তরফদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কূপটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় ভেতরে কোনো অক্সিজেন ছিল না এবং বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল বিশেষ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ ফায়ার ফাইটার মনিরকে কূপে নামিয়ে দেয়। এরপর একে একে চারজনের মরদেহ ও মৃত ছাগল ছানাটি উদ্ধার করা হয়।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, চারজনের মরদেহ ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পরিত্যক্ত কূপে নেমে প্রাণ গেল বাবা-ছেলেসহ চারজনের

আপডেট সময় : ১২:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যাওয়া ছাগল ছানা তুলতে গিয়ে দম আটকে বাবা-ছেলেসহ গারো নৃ-গোষ্ঠীর ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) সকাল ৮টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর বনাঞ্চলের টেলকি এলাকায় এই কলিজা কাঁপানো দুর্ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অক্সিজেনহীন ওই কূপ থেকে একে একে চারজনের লাশ উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন— টেলকি গ্রামের বাবুল হাদিমা (৪০), তার ১২ বছরের ছেলে নেইমার ম্রং, এলাকার জামাই গাব্রিয়াল (৪০) এবং প্রতিবেশী রতন নকরেক (২৭)। তারা সবাই স্থানীয় গারো সম্প্রদায়ের বাসিন্দা।

ছাগল বাঁচাতে গিয়ে যেভাবে ঘটল ট্র্যাজেডি:

মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য লাল মিয়াসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বাবুল হাদিমার একটি ছাগল ছানা টেলকি বাজারের উত্তর-পশ্চিমের মসজিদ এলাকার একটি গভীর পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায়। প্রিয় ছাগল ছানাটিকে উদ্ধার করতে প্রথমে কূপে নামে শিশু নেইমার।

বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও নেইমারের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে উদ্বিগ্ন বাবা বাবুল হাদিমা ছেলেকে বাঁচাতে কূপে নামেন। একইভাবে তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে পর্যায়ক্রমে গাব্রিয়াল এবং শেষে প্রতিবেশী রতন নকরেকও কূপে প্রবেশ করেন। একে একে কূপে নামা চারজনের কারও সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা চিৎকার ও ডাকাডাকি শুরু করে। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেয়।

অক্সিজেনহীন কূপ থেকে লাশ উদ্ধার:

মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী স্টেশন কর্মকর্তা লাভলু তরফদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কূপটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় ভেতরে কোনো অক্সিজেন ছিল না এবং বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল বিশেষ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ ফায়ার ফাইটার মনিরকে কূপে নামিয়ে দেয়। এরপর একে একে চারজনের মরদেহ ও মৃত ছাগল ছানাটি উদ্ধার করা হয়।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, চারজনের মরদেহ ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।