ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদে সংঘর্ষ, তরুণের মৃত্যু

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 118

বখাটের উত্যক্তের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হলো! একদল বখাটের ইভটিজিং রুখতে গিয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হলো পুরো এলাকা। দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানি, রক্তপাত আর এক উদীয়মান তরুণের করুণ মৃত্যুতে চরম থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবী সদরদী গ্রামে এই মর্মান্তিক ও নৃশংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সানি বেপারী (২০) নামের এক তরুণ নিহত হন এবং উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১২ জন গুরুতর আহত হন। খবরের চাঞ্চল্যকর আদ্যোপান্ত নিচে তুলে ধরা হলো:

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ থেকে রণক্ষেত্র

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার নেপথ্যে ছিল চরম নৈতিক অবক্ষয় ও বখাটেপনা। কৈডুবী সদরদী এলাকার বশার মাতুব্বরের ছেলে জিহাদ মাতুব্বর স্থানীয় ‘হযরত ফাতেমাতুজ যোহরা (রাযি.) মহিলা মাদ্রাসা’র ছাত্রীদের দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।

সোমবার সকালে মাদ্রাসার মোহতামিম মুফতি মনির বেপারী অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে বখাটে জিহাদের এই কুকর্মের সরাসরি প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বখাটে চক্রটি। এর জের ধরে দুপুরে বশার মাতুব্বর তার অনুসারীদের সংগঠিত করে মোহতামিম মনির বেপারীর লোকজনের ওপর চড়াও হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আছমত মাতুব্বর জানান, “দুপুরে প্রথমে দুইপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। আমি নিজে মধ্যস্থতা করে উভয়পক্ষকে শান্ত করে বাড়ি পাঠিয়ে দিই। কিন্তু এর ঘণ্টাখানেক পরেই বশার মাতুব্বরের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মনির বেপারীর সমর্থকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।”

হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন আহতরা, ঢাকা নেওয়ার পথে তরুণের মৃত্যু

মুহূর্তের মধ্যে দুইপক্ষ মুখোমুখি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হলে চারপাশ চিৎকার ও আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে উদ্ধার হওয়া আহতদের তালিকায় রয়েছেন—সবুজ বেপারী, মনির বেপারী, আরাফাত হোসেন, শাবানা বেগম ও আতিয়ার বেপারী। আহতদের প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৩ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাঁদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

অন্যদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সানি বেপারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

ওসির বক্তব্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “মাদ্রাসার ছাত্রীদের বিরক্ত করার প্রতিবাদ জানানোকে কেন্দ্র করেই দুইপক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”

ওসি আরও জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ফরিদপুরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদে সংঘর্ষ, তরুণের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১০:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বখাটের উত্যক্তের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হলো! একদল বখাটের ইভটিজিং রুখতে গিয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হলো পুরো এলাকা। দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানি, রক্তপাত আর এক উদীয়মান তরুণের করুণ মৃত্যুতে চরম থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবী সদরদী গ্রামে এই মর্মান্তিক ও নৃশংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সানি বেপারী (২০) নামের এক তরুণ নিহত হন এবং উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১২ জন গুরুতর আহত হন। খবরের চাঞ্চল্যকর আদ্যোপান্ত নিচে তুলে ধরা হলো:

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ থেকে রণক্ষেত্র

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার নেপথ্যে ছিল চরম নৈতিক অবক্ষয় ও বখাটেপনা। কৈডুবী সদরদী এলাকার বশার মাতুব্বরের ছেলে জিহাদ মাতুব্বর স্থানীয় ‘হযরত ফাতেমাতুজ যোহরা (রাযি.) মহিলা মাদ্রাসা’র ছাত্রীদের দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।

সোমবার সকালে মাদ্রাসার মোহতামিম মুফতি মনির বেপারী অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে বখাটে জিহাদের এই কুকর্মের সরাসরি প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বখাটে চক্রটি। এর জের ধরে দুপুরে বশার মাতুব্বর তার অনুসারীদের সংগঠিত করে মোহতামিম মনির বেপারীর লোকজনের ওপর চড়াও হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আছমত মাতুব্বর জানান, “দুপুরে প্রথমে দুইপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। আমি নিজে মধ্যস্থতা করে উভয়পক্ষকে শান্ত করে বাড়ি পাঠিয়ে দিই। কিন্তু এর ঘণ্টাখানেক পরেই বশার মাতুব্বরের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মনির বেপারীর সমর্থকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।”

হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন আহতরা, ঢাকা নেওয়ার পথে তরুণের মৃত্যু

মুহূর্তের মধ্যে দুইপক্ষ মুখোমুখি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হলে চারপাশ চিৎকার ও আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে উদ্ধার হওয়া আহতদের তালিকায় রয়েছেন—সবুজ বেপারী, মনির বেপারী, আরাফাত হোসেন, শাবানা বেগম ও আতিয়ার বেপারী। আহতদের প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৩ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাঁদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

অন্যদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সানি বেপারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

ওসির বক্তব্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “মাদ্রাসার ছাত্রীদের বিরক্ত করার প্রতিবাদ জানানোকে কেন্দ্র করেই দুইপক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”

ওসি আরও জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।