ফরিদপুরে মাদক ও ৫টি পানির মোটরসহ আটক ৩
- আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 5
এক প্রান্তে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, অন্য প্রান্তে স্থানীয় জনতার সজাগ নজরদারিতে চোর চক্রের গোপন আস্তানা উন্মোচন—একই রাতে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা যেন সাক্ষী হলো অপরাধ দমনের দুই ভিন্ন প্রেক্ষাপটের। পকেটে গাঁজার পুরিয়া নিয়ে স্বাধীন মৃধার কারাবাসের পথ নিশ্চিত হলেও, অন্যদিকে বিএস ডাঙ্গী এলাকায় চুরির নিখুঁত তদন্তে খাটের নিচ থেকে উদ্ধার হলো পাঁচটি পানির মোটর! পৃথক এই দুই অভিযানে মোট তিন অপরাধীকে জালে তুলেছে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ।
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) রাতে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে এক মাদক কারবারি এবং পাঁচটি পানির মোটর চুরির ঘটনায় জড়িত দুই চোরসহ মোট তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। একই থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুটি ঘটনায় স্থানীয় জনপদে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ আটক ১
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোজাম্মেল হক বিশ্বাস বালিয়াডাঙ্গী হিন্দু সাকিন এলাকার পুরাতন জেলখানার পেছনের কাঁচা রাস্তায় একটি মাদকবিরোধী অভিযান চালান। সেই সময় সন্দেহভাজন স্বাধীন মৃধা (২০) নামের এক যুবককে আটক করা হয়।
আটক স্বাধীন মৃধা ওই এলাকার প্রয়াত শাখায়াতের ছেলে। পুলিশি তল্লাশিতে তাঁর পরিহিত ফুল প্যান্টের ডান পকেট থেকে কাগজসহ ৩ গ্রাম ওজনের এক পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০০ টাকা। জব্দ তালিকার মাধ্যমে মাদকটি জব্দ করে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পাঁচটি পানির মোটর চুরির রহস্যভেদ ও দুই চোর আটক
অন্য দিকে, একই রাতে চরভদ্রাসন উপজেলার বিএস ডাঙ্গী এলাকায় ঘটে যায় চুরির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সাকিল (২৫) ও রতন খান (৩৫) নামে দুইজনকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর রাতে বিএস ডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা মো. সোরহাব হোসেনের নবনির্মিত তিনতলা ভবনের নিচতলার সিঁড়ির নিচ থেকে একটি পানির মোটর চুরি হয়। এছাড়া একই এলাকার নুরু মোল্লা, মঞ্জু মৃধা ও আদেল উদ্দিন খানের বাড়ি থেকেও বিভিন্ন সময়ে আরও চারটি মোটর চুরি হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই ৫টি চোরাই মোটরের বাজারমূল্য প্রায় ৩৯ হাজার টাকা।
মঙ্গলবার রাতে সাকিলকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় রফিকুল ইসলাম, ইমাম হাসান ও জিহাদসহ কয়েকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাকে হেফাজতে নেয়। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে সে চুরির সত্যতা স্বীকার করে। সাকিলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর অভিযুক্ত রতন খানের বসতঘরের খাটের নিচ থেকে চুরি হওয়া পানির মোটরগুলো উদ্ধার করা হয়। চোরাই মোটর কিনে নিজের হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করায় রতনকেও আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সোরহাব হোসেন বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য
পৃথক দুই ঘটনায় মোট তিনজনের আটক হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফর আলী বলেন, “মাদক ও চুরি দমনে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। স্থানীয় লোকজনের সচেতনতা ও সহযোগিতায় পানির মোটর চুরির সঙ্গে জড়িত দুজনকে আটক ও চোরাই মালামাল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি মাদকসহ আটক যুবকের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের দমনে আমাদের এই অভিযান অবিরাম চলবে।”


















