‘সময় থাকতে পালিয়ে যাও, আমি তুফান!’ সামনে ৮ পিস্তল সাজিয়ে হুমকি
- আপডেট সময় : ১২:৫০:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 64
সামনে পরিপাটি করে সাজানো আট-আটটি মারণাস্ত্র পিস্তল। নেপথ্যে শুনা যাচ্ছে এক কর্কশ ও হিংস্র হুংকার—”খেলা দেখছো কোথায়? ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর। টাকা দিয়ে মরণের টিকিট আনছি। সময় থাকতে পালিয়ে যাও। আমি তুফান!” মাত্র ২১ সেকেন্ডের এক টিকটক-মার্কা কিন্তু শিউরে ওঠার মতো ভিডিও বার্তা। আর এই ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়তেই চট্টগ্রামজুড়ে তোলপাড়, বিশেষ করে রাউজানের বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্কের তীব্র ঝাঁঝ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ডিজিটাল পর্দায় একের পর এক সাজানো আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে নেটপাড়ায় প্রকাশ্য হুমকি ছুড়ে দিয়েছে চট্টগ্রামের এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ভিডিওতে দৃশ্যমান আটটি পিস্তলের মহড়া দেওয়া এই ব্যক্তির নাম হৃদয়, অপরাধ জগতে যিনি ‘বুলেট হৃদয়’ নামে পরিচিত।
চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাউজানের কুখ্যাত ‘ফজল হক বাহিনী’র সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মো. মামুনের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী এবং স্থানীয় বাদশার ছেলে এই বুলেট হৃদয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের নতুন কৌশল ও অস্ত্রপ্রদর্শন নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
২১ সেকেন্ডের ভিডিওতে কী আছে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ২১ সেকেন্ডের ওই ক্লিপটিতে দেখা যায়, একটি টেবিলের ওপর কাপড়ের ওপর সারি সারি সাজানো রয়েছে আটটি পিস্তল। কোনো ভীতি বা আড়ষ্টতা ছাড়াই অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে এক কণ্ঠকে বলতে শোনা যায়, “খেলা দেখছো কোথায়? ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর। টাকা দিয়ে মরণের টিকিট আনছি। সময় থাকতে পালিয়ে যাও। আমি তুফান।”
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, ভিডিওতে প্রদর্শিত এই মারণাস্ত্রগুলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সময় বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র হতে পারে। সন্ত্রাসী বুলেট হৃদয়ের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করার ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে।
অশান্ত রাউজান: পটপরিবর্তনের পর ২৭ খুন!
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে রাউজানের পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে চট্টগ্রামজুড়ে রাজনৈতিক ও গ্রামীণ আধিপত্য নিয়ে সংঘাত চরম রূপ নিয়েছে। কেবল রাউজান উপজেলাতেই এ পর্যন্ত অন্তত ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২০টিই ঘটেছে রাজনৈতিক ও গ্যাং-সংঘাতের জের ধরে। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সশ্লিষ্ট সহিংসতায় সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। ৩ দিন আগেই এলাকাটিতে ‘তোর সময় শেষ, যা খাওয়ার খেয়ে নে’—এমন হুমকি পেয়েছিলেন সরোয়ার নামের এক ব্যক্তি, যিনি পরবর্তীতে আক্রমণের শিকার হন।
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আজ বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে বা যার কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে, সে বুলেট হৃদয়। তবে এটি সম্প্রীতি তোলা ভিডিও নাকি কোনো পুরনো ভিডিও তা আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করছি। ধারণা করা হচ্ছে ভিডিওটি কিছুটা পুরনো হতে পারে। তবে তা সত্ত্বেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ অত্যন্ত সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”


















