ঢাকা ০২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে দুই দিন পর খাদে ভেসে উঠল শিক্ষার্থীর লাশ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:২২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 176

চূড়ান্ত বর্ষের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষা দিয়ে নতুন স্বপ্নে পা রাখার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বপ্নপূরণের সেই পথেই ঘটল সলিলসমাধি! ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ দুই দিন পর পাওয়া গেল পলিটেকনিক শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের (২৮) নিথর দেহ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের পাইকহাটি এলাকায় বিদ্যুতের সাবস্টেশনের সামনের খাদের পানিতে মরদেহটি ভেসে ওঠে। নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার হওয়া এই লাশের খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্বজনেরা। বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

পাট জাগ দিতে গিয়ে মিলল মরদেহের সন্ধান

নিহত শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পিংগুলিয়া গ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে। তিনি ‘বোয়ালমারী ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির’ সপ্তম সেমিস্টারের (শেষ বর্ষ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) কাশিয়ানী থেকে ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বোয়ালমারী যাচ্ছিলেন হাফিজুর। পথিমধ্যে পাইকহাটি এলাকায় দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাসটি একটি ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। সে সময় অন্তত ১২ জন যাত্রী আহত হলেও পানির নিচে চাপা পড়ে নিখোঁজ হন হাফিজুর।

দুর্ঘটনার দুই দিন পর বুধবার সকালে দুর্ঘটনাকবলিত খাদের পানিতে পাট জাগ দিতে যান এক স্থানীয় কৃষক। পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে আসে। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

থানায় জিডি ও পরিবারে শোকের মাতম

পরীক্ষার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর হাফিজুর আর ফিরে না আসায় ও তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় চিন্তিত স্বজনেরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

মরদেহ উদ্ধারের খবরে পৌঁছে লাশটি নিখোঁজ হাফিজুরের বলে শনাক্ত করেন তাঁর চাচা মোশারেফ মোল্যা। শোকে পাথর চাচা বলেন, “আমার ভাতিজা সোমবার সকালে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য হাসি মুখে ঘর থেকে বেরিয়েছিল। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ খবর পেয়ে খাদে এসে দেখি পানির ভেতর আমার নিষ্পাপ ভাতিজার লাশ ভেসে রয়েছে।”

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গত সোমবার একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় হাফিজুর রহমান বাসের নিচে পানিতে চাপা পড়ে যান। বুধবার সকালে লাশ ভেসে উঠলে উদ্ধার করা হয়। পরিবার মরদেহ শনাক্ত করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

ফরিদপুরে দুই দিন পর খাদে ভেসে উঠল শিক্ষার্থীর লাশ

আপডেট সময় : ০১:২২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

চূড়ান্ত বর্ষের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষা দিয়ে নতুন স্বপ্নে পা রাখার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বপ্নপূরণের সেই পথেই ঘটল সলিলসমাধি! ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ দুই দিন পর পাওয়া গেল পলিটেকনিক শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের (২৮) নিথর দেহ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের পাইকহাটি এলাকায় বিদ্যুতের সাবস্টেশনের সামনের খাদের পানিতে মরদেহটি ভেসে ওঠে। নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার হওয়া এই লাশের খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্বজনেরা। বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

পাট জাগ দিতে গিয়ে মিলল মরদেহের সন্ধান

নিহত শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পিংগুলিয়া গ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে। তিনি ‘বোয়ালমারী ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির’ সপ্তম সেমিস্টারের (শেষ বর্ষ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) কাশিয়ানী থেকে ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বোয়ালমারী যাচ্ছিলেন হাফিজুর। পথিমধ্যে পাইকহাটি এলাকায় দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাসটি একটি ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। সে সময় অন্তত ১২ জন যাত্রী আহত হলেও পানির নিচে চাপা পড়ে নিখোঁজ হন হাফিজুর।

দুর্ঘটনার দুই দিন পর বুধবার সকালে দুর্ঘটনাকবলিত খাদের পানিতে পাট জাগ দিতে যান এক স্থানীয় কৃষক। পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে আসে। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

থানায় জিডি ও পরিবারে শোকের মাতম

পরীক্ষার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর হাফিজুর আর ফিরে না আসায় ও তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় চিন্তিত স্বজনেরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

মরদেহ উদ্ধারের খবরে পৌঁছে লাশটি নিখোঁজ হাফিজুরের বলে শনাক্ত করেন তাঁর চাচা মোশারেফ মোল্যা। শোকে পাথর চাচা বলেন, “আমার ভাতিজা সোমবার সকালে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য হাসি মুখে ঘর থেকে বেরিয়েছিল। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ খবর পেয়ে খাদে এসে দেখি পানির ভেতর আমার নিষ্পাপ ভাতিজার লাশ ভেসে রয়েছে।”

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গত সোমবার একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় হাফিজুর রহমান বাসের নিচে পানিতে চাপা পড়ে যান। বুধবার সকালে লাশ ভেসে উঠলে উদ্ধার করা হয়। পরিবার মরদেহ শনাক্ত করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”