ফরিদপুরে থানা ভাঙচুরের মামলায় আওয়ামী লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০২:৩০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 162
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সেই অগ্নিগর্ভ অপরাহ্ন—যখন ক্ষোভের আগুনে ছাই হয়ে গিয়েছিল আইনের রক্ষাকবচ সদরপুর থানা ভবন। সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ, হামলা আর লুটপাটের সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও তাড়া করে ফিরে এলাকাটিকে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সেই তাণ্ডব ও থানা ভাঙচুরের অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে সদরপুর থানা পুলিশ।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে থানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ঘটনায় দায়ের করা স্পর্শকাতর মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুই স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বিকেলে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বাবুরচর বাজার এলাকায় এক গোপন ও ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
গ্রেপ্তার হওয়া দুই নেতা হলেন—চরনাছিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজ বেপারী (৫৬) এবং একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. বিদ্যুৎ হাওলাদার (৪৭)।
পুলিশ জানায়, আটক মিরাজ বেপারী কাজীর কান্দি গ্রামের আমিন উদ্দিন বেপারীর ছেলে এবং বিদ্যুৎ হাওলাদার ইব্রাহীম মুন্সী কান্দি গ্রামের মালেক হাওলাদারের সন্তান। দীর্ঘ দিন ধরে তাঁরা এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।
যে মামলায় গ্রেপ্তার ও আইনি ধারা
সদরপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে অভিযুক্তরা বাবুরচর বাজার এলাকায় গোপনে অবস্থান করছেন। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের কাবু করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট সদরপুর থানায় দায়ের করা ১/১৫০ নম্বর মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ১৮৬, ৩৩২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৫৩, ৪২৭, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারাসহ বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৫(৩) ধারার মতো গুরুতর ও জামিন-অযোগ্য অপরাধের ধারা যুক্ত রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা প্রদান, থানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সম্পদ লুটপাটের প্রত্যক্ষ অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর থানার সেকেন্ড অফিসার মো. মোখলেসুর রহমান জানান, “গ্রেপ্তার হওয়া দুজন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এলাকায় গোপনে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গোপনে সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।”

















