ঢাকা ০৮:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ইয়াবার ভিডিও বেচে চাঁদাবাজি, ফরিদপুরে পুলিশের গাড়িতে হামলা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 235

ইয়াবা সেবনের গোপন ভিডিও মোবাইলে তুলে চাঁদাবাজির ফাঁদ! আর সেই অপকর্ম আড়াল করতে ওমান প্রবাসীর ১৫-২০টি মোটরসাইকেলের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর প্রকাশ্য মহড়া। ফলস্বরূপ দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ৭০ ও ৬৫ বছর বয়সী দুই বৃদ্ধকে জিম্মি করা এবং খবর পেয়ে উদ্ধার করতে যাওয়া পুলিশের ওপর উত্তেজিত জনতার রূঢ় হামলা! চরাঞ্চলের আধিপত্য ও মাদকের কালো থাবায় ফরিদপুরে এক থ্রিলারের চেয়েও নাটকীয় ঘটনার জন্ম হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট, ২০২৬) গভীর রাতে ফরিদপুর জেলা সদরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলজারমন্ডলের ডাঙ্গীর আক্কাচ আলীর মোড় এলাকায় এই বর্বরোচিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একদিকে নেতৃত্ব দেন প্রবাসী টুলু মিয়ার (৩৫) গ্রুপ এবং অন্যপক্ষে লতিফ শিকদারের ছেলে বক্কার শিকদার (৪২)।

ইয়াবার গোপন ভিডিও, রামদা ও প্রবাসীর ক্যাডার বাহিনী

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ আগস্ট। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন গোলজার মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকায় বসে ইয়াবা সেবন করছিল স্থানীয় এক যুবক শাকিল ও তার সহযোগীরা। সেই দৃশ্য চুপিসারে মোবাইলে ধারণ করে ওমান প্রবাসী টুলু ও তার ঘনিষ্ঠ সুমনসহ কয়েকজন। পরবর্তীতে ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে শাকিলের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।

টাকা দেওয়ার বাহানায় টুলুকে ডেকে এনে বেধড়ক ধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় শাকিলের দল। তবে স্থানীয় মধ্যস্থতায় প্রাথামিক চিকিৎসার পর মুক্ত হয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রবাসী টুলু। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পাশের মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে ক্যাডার বাহিনী ভাড়া করে এনে আক্কাচ আলীর মোড়ে তাণ্ডব চালায় টুলু। মারধর করা হয় মুদি দোকানি বক্কার শিকদার ও মান্নান নামের দু’জনকে।

এর আগে টুলুর ভাই নিলু রামদা নিয়ে হামলা করতে এলে বক্কারের ছেলে লালচান তাঁকে আটকে পুলিশের সোপর্দ করেছিল। সেই পুরোনো আক্রোশেই এই বাইক তাণ্ডব।

বৃদ্ধদের জিম্মি ও পুলিশের ওপর হামলা-গাড়ি ভাঙচুর

টুলু বাহিনীর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। বক্কার শিকদারের অনুসারী শত শত গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। তবে মূল অপরাধী টুলুকে না পেয়ে তার ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবা রাজা মিয়া এবং স্থানীয় জয়নাল শিকদারকে (৬৫) পিটিয়ে গুরুতর জখম করে জিম্মি করে রাখে উত্তেজিত জনতা।

খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানে যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ। কিন্তু রক্তাক্ত দু’জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে চাইলে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী পুলিশের ওপরেই চড়াও হয়! উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সরকারি পিকআপভ্যানের পর্দা ছিঁড়ে ফেলে এবং চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অতিরিক্ত পুলিশ বল্লভ ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজা মিয়া ও জয়নালকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনা ঘটিয়ে বিদেশে চম্পট! পুলিশ বলছে ‘ব্যবস্থা হচ্ছে’

স্থানীয় মিন্টু মৃধা নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে জানান—

“টুলু ওমানে থাকলেও মাঝে মাঝেই দেশে এসে গ্রামে মাস্তানি ও আধিপত্য দেখায়। দু-তিনটি পরিবার ছাড়া পুরো গ্রাম ওদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে একজোট। শুক্রবার রাতে এত বড় তাণ্ডব চালিয়ে আজ শনিবার সকাল ১০টার ফ্লাইটে নাকি ওমানে চম্পট দিয়েছে সে!”

পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন—

“মাদক ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। এর মাঝে পড়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং আমাদের সরকারি পিকআপভ্যান ভাঙচুর করে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।”

‘ইয়াবার ভিডিও বেচে চাঁদাবাজি, ফরিদপুরে পুলিশের গাড়িতে হামলা

আপডেট সময় : ০৭:০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

ইয়াবা সেবনের গোপন ভিডিও মোবাইলে তুলে চাঁদাবাজির ফাঁদ! আর সেই অপকর্ম আড়াল করতে ওমান প্রবাসীর ১৫-২০টি মোটরসাইকেলের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর প্রকাশ্য মহড়া। ফলস্বরূপ দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ৭০ ও ৬৫ বছর বয়সী দুই বৃদ্ধকে জিম্মি করা এবং খবর পেয়ে উদ্ধার করতে যাওয়া পুলিশের ওপর উত্তেজিত জনতার রূঢ় হামলা! চরাঞ্চলের আধিপত্য ও মাদকের কালো থাবায় ফরিদপুরে এক থ্রিলারের চেয়েও নাটকীয় ঘটনার জন্ম হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট, ২০২৬) গভীর রাতে ফরিদপুর জেলা সদরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলজারমন্ডলের ডাঙ্গীর আক্কাচ আলীর মোড় এলাকায় এই বর্বরোচিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একদিকে নেতৃত্ব দেন প্রবাসী টুলু মিয়ার (৩৫) গ্রুপ এবং অন্যপক্ষে লতিফ শিকদারের ছেলে বক্কার শিকদার (৪২)।

ইয়াবার গোপন ভিডিও, রামদা ও প্রবাসীর ক্যাডার বাহিনী

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ আগস্ট। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন গোলজার মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকায় বসে ইয়াবা সেবন করছিল স্থানীয় এক যুবক শাকিল ও তার সহযোগীরা। সেই দৃশ্য চুপিসারে মোবাইলে ধারণ করে ওমান প্রবাসী টুলু ও তার ঘনিষ্ঠ সুমনসহ কয়েকজন। পরবর্তীতে ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে শাকিলের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।

টাকা দেওয়ার বাহানায় টুলুকে ডেকে এনে বেধড়ক ধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় শাকিলের দল। তবে স্থানীয় মধ্যস্থতায় প্রাথামিক চিকিৎসার পর মুক্ত হয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রবাসী টুলু। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পাশের মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে ক্যাডার বাহিনী ভাড়া করে এনে আক্কাচ আলীর মোড়ে তাণ্ডব চালায় টুলু। মারধর করা হয় মুদি দোকানি বক্কার শিকদার ও মান্নান নামের দু’জনকে।

এর আগে টুলুর ভাই নিলু রামদা নিয়ে হামলা করতে এলে বক্কারের ছেলে লালচান তাঁকে আটকে পুলিশের সোপর্দ করেছিল। সেই পুরোনো আক্রোশেই এই বাইক তাণ্ডব।

বৃদ্ধদের জিম্মি ও পুলিশের ওপর হামলা-গাড়ি ভাঙচুর

টুলু বাহিনীর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। বক্কার শিকদারের অনুসারী শত শত গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। তবে মূল অপরাধী টুলুকে না পেয়ে তার ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবা রাজা মিয়া এবং স্থানীয় জয়নাল শিকদারকে (৬৫) পিটিয়ে গুরুতর জখম করে জিম্মি করে রাখে উত্তেজিত জনতা।

খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানে যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ। কিন্তু রক্তাক্ত দু’জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে চাইলে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী পুলিশের ওপরেই চড়াও হয়! উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সরকারি পিকআপভ্যানের পর্দা ছিঁড়ে ফেলে এবং চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অতিরিক্ত পুলিশ বল্লভ ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজা মিয়া ও জয়নালকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনা ঘটিয়ে বিদেশে চম্পট! পুলিশ বলছে ‘ব্যবস্থা হচ্ছে’

স্থানীয় মিন্টু মৃধা নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে জানান—

“টুলু ওমানে থাকলেও মাঝে মাঝেই দেশে এসে গ্রামে মাস্তানি ও আধিপত্য দেখায়। দু-তিনটি পরিবার ছাড়া পুরো গ্রাম ওদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে একজোট। শুক্রবার রাতে এত বড় তাণ্ডব চালিয়ে আজ শনিবার সকাল ১০টার ফ্লাইটে নাকি ওমানে চম্পট দিয়েছে সে!”

পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন—

“মাদক ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। এর মাঝে পড়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং আমাদের সরকারি পিকআপভ্যান ভাঙচুর করে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।”