নেপালে ৫৭৯ প্রাণহীন দেহ উদ্ধার, মেলেনি ৩২০ ভারতীয়র খোঁজ
- আপডেট সময় : ০৯:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 62
হিমালয়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা মনোরম জনপদ নিমেষেই বদলে গেল জল আর কাদামাটির গোরস্থানে! গত বুধবার সকালে তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন রাসুয়া জেলার ভোটোকোশী নদীতে এক লহমায় নেমে আসা প্রলয়ঙ্করি হড়পা বান ভাসিয়ে নিয়ে গেল একের পর এক গ্রাম। নিখোঁজ হাজার দেড়েকের বেশি মানুষ, আর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে একে একে বের হয়ে আসছে শুধু প্রাণহীন দেহ। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, উদ্ধার করা মরদেহের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫৭৯ ছাড়িয়েছে!
এই মহাবিপর্যয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে ভারতেও। নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রক নিশ্চিত করেছে, এখনও পর্যন্ত আটকে পড়া অন্তত ৩২০ জন ভারতীয়র সঙ্গে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। যদিও শুক্রবার বিকেল নাগাদ নেপালের পর্যটন মন্ত্রক জানিয়েছে, চরম ঝুঁকি নিয়ে ৮৫ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
৩৬ ঘণ্টায় ১৯১ কোটির অনুদান, সহায়তার হাত ভারতের
হড়পা বানের তাণ্ডবে হিমশিম খাওয়া নেপাল সরকারের সামনে এখন উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুর্নবাসনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই ক্রান্তিলগ্নে নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে গোটা বিশ্ব। বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত—মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে জমা পড়েছে ১৯১ কোটি নেপালি রুপির (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১২০ কোটি টাকা) বিশাল অনুদান। দেশের ১০টি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা পড়া এই সহায়তায় ভূমিকা রেখেছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে থাকা প্রবাসী ও দেশি নেতারা। বর্তমানে এই তহবিলে স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪০৯ কোটি নেপালি রুপি।
দুযোর্গের খবর প্রকাশ্যে আসতেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে দূরভাষে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে কাঠমান্ডুকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। কথা রাখতেই ইতিমধ্যে ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে ৪৭.৫ টন খাদ্য ও জরুরি উদ্ধারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নেপালে।
যদিও ভারত, চীন, বাংলাদেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মতো শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের দক্ষ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে বলেন্দ্র শাহের সরকার সাফ জানিয়েছে—এই মুহূর্তে বিদেশি বাহিনী ছাড়াই নিজেদের সেনাবাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দিয়ে উদ্ধারকার্য পরিচালনা করবে তারা, তবে আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও আর্থিক সাহায্য গ্রহণে কোনো বাধা নেই।
















