ফরিদপুরে ২০০ মিটারের নির্জন সড়ক! সন্ধ্যা নামলেই বসে ইয়াবার বাজার
- আপডেট সময় : ১১:৫৫:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 248
দিনের আলো ফুটলে রাস্তাটি দিয়ে আর দশটা গ্রামীণ সড়কের মতোই হেঁটে যান সাধারণ মানুষ, কৃষক কিংবা পথচারীরা। কিন্তু সূর্য ডুবতেই সেখানে ভর করে এক অদ্ভুত, ছায়াময় আতঙ্ক! লাল-নীল আলো জ্বালিয়ে দ্রুতগতিতে এসে থামে একের পর এক মোটরসাইকেল। শুরু হয় ফিসফাস, সংকেত এবং দেদারসে বিষাক্ত ‘নীল বড়ি’ ইয়াবার হাতবদল। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার শেষ প্রান্তে, যেন এক টুকরো ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-কে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে এই মিনি ইয়াবার বাজার!
ঘটনাটি সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের। বরকন্তাজ বাড়ি থেকে পশ্চিমপাড়ার সংযোগ স্থাপনকারী প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ সড়কটিই এখন মাদক কারবারিদের সবচেয়ে নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সদরপুর ও নগরকান্দা—দুই উপজেলার সীমানাবর্তী এই নির্জন স্থানে কোনো জনবসতি না থাকার সুযোগকে ষোলআনা কাজে লাগাচ্ছে মাদকের বড় বড় চক্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষ্ণপুর হাট থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই সড়কটির দুপাশে কোনো বাড়িঘর নেই। ফলে সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকা নিশুতি রূপ নেয়। আর সেই সূযোগেই পাশের উপজেলাগুলো থেকে বাইক হাঁকিয়ে ছুটে আসে অপরাধীরা। সঙ্গে স্থানীয় কিছু সোর্সের সহযোগিতায় সেখানে বসে রাতের ইয়াবা হাট।
‘নাম বললেই বিপদ!’ আতঙ্কে সিঁটিয়ে পুরো গ্রাম
সন্ধ্যার পর এই রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধের পথে। কোনো জরুরি প্রয়োজনে কাউকে যেতে হলেও বুকে ভয় চেপে যেতে হয়। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, নির্জন রাস্তার মোড়ে মোড়ে দলবেঁধে অবস্থান নেয় নেশাগ্রস্ত ও বিক্রেতারা। তাদের বেপরোয়া আচরণ ও চাহনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলে।
এলাকার চরম উদ্বেগের কথা তুলে ধরে স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিক বরকন্তাজ বলেন—
“সন্ধ্যার পর এই নির্জন রাস্তায় শত শত অচেনা লোকের আনাগোনা বেড়ে যায়। প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, এলাকার পুরো পরিবেশ আর যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে। আমরা পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে তীব্র উদ্বেগে আছি।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব শেখ আক্ষেপের সুরে জানান, নিয়মিত পুলিশি টহল ও অভিযান না থাকায় এই নির্জন এলাকাটিকে বেছে নিয়েছে অপরাধীরা।
তবে সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো—ওই এলাকায় ঠিক কারা এই বিষাক্ত বাণিজ্যের নেপথ্যে রয়েছে, তা নিয়ে টু শব্দটিও করার সাহস পাচ্ছে না কেউ। চক্রান্তকারী মাদক মাফিয়াদের ভয়ে নিরাপত্তার শংকায় গ্রামবাসীরা কারও নাম প্রকাশ করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
দুই উপজেলার সীমান্ত ফাঁদ ও ওসির আশ্বাস
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তাটি সদরপুর ও নগরকান্দা—দুই প্রশাসনিক সীমানার একেবারে সন্ধিস্থলে হওয়ায় অপরাধীরা সুবিধা পায় বেশি। এক উপজেলার পুলিশ আসার টের পেলেই চট জলদি সীমান্ত পার হয়ে অন্য উপজেলার দিকে সটকে পড়ে তারা। এ কারণে দুই উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ ও সমন্বিত অভিযান ছাড়া এই ‘ইয়াবার বাজার’ উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান—
“মাদক সেবন কিংবা বিক্রির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমান্ত এলাকার ওই নির্দিষ্ট সড়কে পুলিশের টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে এবং মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”











