ফরিদপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ১২:০০:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪
- / 182
ফরিদপুরে স্বামী প্রবাসে থাকায় সুযোগে শ্বশুরের ধর্ষণের শিকার হয়ে ২৮ সপ্তাহের অন্ত:সত্বা হয়ে পরেন এক গৃহবধূ (৩১) । এ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে শ্বশুরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার এ টাকা শশুরকে পরিশোধ করতে হবে এবং সে টাকা ওই গৃহবধূকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার (১ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে এ রায় দেন ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান।
দন্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যাক্তির নাম রেজাউল মিয়া (৫৩)। তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের মোবারকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালত উপস্থিত ছিলেন পরে পুলিশ পুনরায় তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে,২০১১ সালে প্রেম করে বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের এক যুবককে বিয়ে করেন ওই গৃহবধূর । গৃহবধূর দুটি সন্তান রয়েছে। ২০২০ সালের শুরুর দিকে জীবিকার তাগিদে দুবাই যান স্বামী।
এরপর থেকেই ওই গৃহবধূর শ্বশুর তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন । ২০২১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বেলা এগারোটার দিকে ওই গৃহবধূ তার ঘরে শুয়েছিলেন।তখন তার কক্ষে ঢুকে শ্বশুর রেজাউল দরজা আটকে দিয়ে তার এক নাতির গলায় ছুরি ধরে পুত্রবধূকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর থেকে আরও কয়েকবার একইভাবে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
এরফলে ওই গৃহবধু অন্তসত্বা হয়ে পড়েন। এঘটনায় ওই গৃহবধূ ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল বোয়ালমারী থানায় মামলা করতে গেলে থানা থেকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরদিন(২১ এপ্রিল) শ্বশুরকে একমাত্র আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা করেন ওই গৃহবধূ।
মামলাটি তদন্ত করে ২০২৩ সালের ১৩ জানুয়ারি রেজাউল মিয়াকে একমাত্র আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুরের পরিদর্শক মো. জালাল উদ্দীন সরদার।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের পিপি স্বপন পাল বলেন, শশুর কর্তৃক গৃহবধূ ধর্ষিত হওয়ার ঘটনা একটি নাক্কারজনক বিষয়। এ ব্যাপারে আদাল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এ রায় সমাজে বার্তা দেবে অপরাধ করে পার পাওয়া যায় না।




















