ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর লুটের অস্ত্র নিয়ে তিন বন্ধুর টিকটক, গুলিতে প্রাণ গেল পলাশের

মিজানুর রহমান সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৪
  • / 149

ফরিদপুরের সদরপুর থানা থেকে লুট করা অস্ত্র নিয়ে টিকটক করছিলেন তিন বন্ধু। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় পলাশ হোসেন নামে এক বন্ধুর।

সোমবার (১২ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গত ৬ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হন ওই তরুণ। নিহত পলাশ সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামের মোশারফ হোসেনের বড় ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট সকালে সদরপুর সরকারি কালেজের একাদশ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী পলাশকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তারা আড়াই রশি গ্রামে পলাশের নানা মোসলেম মাতুব্বরের বাড়িতে যান। ওই বাড়ির একটি কক্ষে তারা তিনজন একত্রিত হয়ে গত ৫ আগস্ট সদরপুর থানা থেকে লুট করে নেয়া একটি শর্টগান নিয়ে টিকটক ভিডিও করার জন্য অস্ত্রটি একে অপরের মাথায় তাক করে অভিনয় করতে থাকেন। হঠাৎ শর্টগান থেকে গুলি বের হয়ে তা পলাশের মাথায় লাগে। গুলির শব্দ এবং পলাশের চিৎকার শুনতে পেয়ে বাড়ির লোকজন ছুটে যান সেই কক্ষে। সেখানে গিয়ে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পরে থাকতে দেখেন পলাশকে।

পলাশকে প্রথমে আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল হাসপাতাল নেয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এরপর নেয়া হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর থেকে ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে নেয়া হয়। ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ছয় দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার ভোরে মারা যান পলাশ।

জানা যায়, পলাশকে গুলি করা অস্ত্রটি সদরপুর থানা থেকে লুট হওয়া একটি শর্টগান। গত ৫ আগস্ট বিকেলে সদরপুর থানা থেকে ওই শর্টগান লুট করা হয়েছিল।

ঘটনার পর পলাশের ওই দুই বন্ধু ও তাদের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপন করেছেন।

নিহত পলাশের মা পারুলি আক্তারের দাবি, সদরপুর থানা থেকে লুট করা অস্ত্র দিয়ে তার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

সদরপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় পলাশের মা পারুলী আক্তার বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পলাশের লাশ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, থানা থেকে লুট করে নেয়া অস্ত্র দিয়ে বন্ধুরা টিকটক করতে গিয়ে গুলি বের হয়ে পলাশ মারা গেছেন নাকি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তদন্তে বের আসবে।

ট্যাগস :

ফরিদপুর লুটের অস্ত্র নিয়ে তিন বন্ধুর টিকটক, গুলিতে প্রাণ গেল পলাশের

আপডেট সময় : ১২:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৪

ফরিদপুরের সদরপুর থানা থেকে লুট করা অস্ত্র নিয়ে টিকটক করছিলেন তিন বন্ধু। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় পলাশ হোসেন নামে এক বন্ধুর।

সোমবার (১২ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গত ৬ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হন ওই তরুণ। নিহত পলাশ সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামের মোশারফ হোসেনের বড় ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট সকালে সদরপুর সরকারি কালেজের একাদশ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী পলাশকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তারা আড়াই রশি গ্রামে পলাশের নানা মোসলেম মাতুব্বরের বাড়িতে যান। ওই বাড়ির একটি কক্ষে তারা তিনজন একত্রিত হয়ে গত ৫ আগস্ট সদরপুর থানা থেকে লুট করে নেয়া একটি শর্টগান নিয়ে টিকটক ভিডিও করার জন্য অস্ত্রটি একে অপরের মাথায় তাক করে অভিনয় করতে থাকেন। হঠাৎ শর্টগান থেকে গুলি বের হয়ে তা পলাশের মাথায় লাগে। গুলির শব্দ এবং পলাশের চিৎকার শুনতে পেয়ে বাড়ির লোকজন ছুটে যান সেই কক্ষে। সেখানে গিয়ে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পরে থাকতে দেখেন পলাশকে।

পলাশকে প্রথমে আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল হাসপাতাল নেয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এরপর নেয়া হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর থেকে ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে নেয়া হয়। ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ছয় দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার ভোরে মারা যান পলাশ।

জানা যায়, পলাশকে গুলি করা অস্ত্রটি সদরপুর থানা থেকে লুট হওয়া একটি শর্টগান। গত ৫ আগস্ট বিকেলে সদরপুর থানা থেকে ওই শর্টগান লুট করা হয়েছিল।

ঘটনার পর পলাশের ওই দুই বন্ধু ও তাদের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপন করেছেন।

নিহত পলাশের মা পারুলি আক্তারের দাবি, সদরপুর থানা থেকে লুট করা অস্ত্র দিয়ে তার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

সদরপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় পলাশের মা পারুলী আক্তার বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পলাশের লাশ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, থানা থেকে লুট করে নেয়া অস্ত্র দিয়ে বন্ধুরা টিকটক করতে গিয়ে গুলি বের হয়ে পলাশ মারা গেছেন নাকি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তদন্তে বের আসবে।