ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে সারবাহী জাহাজে সাত খুন"

ফরিদপুরের বাড়িতে এসে পৌঁছেছে মামা-ভাগ্নের লাশ

ফরিদপুর থেকে আনোয়ার জাহিদ
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / 307

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ইশানবালা খালে নোঙর করা এমভি আল-বাখেরা নামের সারবাহী জাহাজে সাতজন নিহতের মধ্যে গোলাম কিবরিয়া (৬৫) ও সবুজ শেখের (২৬) লাশ নিয়ে চাঁদপুর থেকে ফরিদপুরের বাড়িতে এসে পৌঁছে ছে মামা-ভাগ্নের লাশ। সম্পর্কে তারা মামা- ভাগ্নে।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চাঁদপুর থেকে দুইজনের লাশ এ্যাম্বুলেন্সে করে রওনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহত সবুজের ভাই মিজানুর রহমান।

জানা গেছে, নিহত গোলাম কিবরিয়া (৬৫) জাহাজটির মাস্টার ছিলেন এবং সবুজ শেখ (২৬) লস্কর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারা ফরিদপুর সদরের গেরদা ইউনিয়নের জোয়ারের মোড় এলাকার বাসিন্দা। গোলাম কিবরিয়া সদরের জোয়ারের মোড়ের মৃত আনিসুর রহমানের ছেলে। এ জেলার নিহত অপরজন সবুজ শেখ গোলাম কিবরিয়ার ভাগ্নে। গোলাম কিবরিয়া এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা এবং সবুজ ছয় ভাই ও চার বোনের মধ্যে চতুর্থ অবিবাহিত ছিল। মামা-ভাগ্নের নিহতের খবর বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সবুজের মা রাজিয়া বেগম বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছে।

নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত এক মাস আগে গোলাম কিবরিয়া ও সবুজ শেখ বাড়ি থেকে কাজের সন্ধানে বের হন। সোমবার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা এ মৃত্যুর ঘটনা জানতে পারেন। সোমবারই কিবরিয়ার জাহাজে শেষ কর্মদিবস ছিল বলে স্বজনরা জানান।

নিহত সবুজ শেখের বড় ভাই মিজানুর রহমান ওরফে ফারুক জানান, এক মাস আগে মামা কিবরিয়ার সঙ্গে জাহাজের কাজে যোগ দিয়েছিলেন আমার ভাই সবুজ। হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। লাশ সনাক্তের পর মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে লাশবাহী গাড়ী আমাদের বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা দিয়েছে। সাথে আমার দুই ভাই, এক মামাসহ ৭জন সদস্য রয়েছে। আজ রাতেই (মঙ্গলবার) স্থানীয় গফুর মাতব্বরের গোরস্থানে নিহত মামা-ভাগ্নের লাশ দাফন করা হবে। তাদের কবর খুঁড়ার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তিনি আরো জানান।

জানা যায়, জাহাজটিতে থাকা ৮জনের মধ্যে ৭জনের লাশ সনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে এদের মধ্যে বেঁচে যাওয়া জুয়েল রানার (৩৫) বাড়িও ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাদদিয়া ইউনিয়নের বকেরটিলা গ্রামে। জুয়েল চার বছর ধরে ওই জাহাজে কাজ করছিলেন। তিনি বকেরটিলা গ্রামের সেকেন্দার খালাসির ছেলে। আহত জুয়েল রানাকে সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে নাক, কান ও গলা বিভাগে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। জুয়েল রানার শ্বাসনালী কেটে যাওয়ায় সেখানে টিউব যুক্ত করা হলেও তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। তিনি কোন কথা বলতে পারছেন না

ট্যাগস :

চাঁদপুরে সারবাহী জাহাজে সাত খুন"

ফরিদপুরের বাড়িতে এসে পৌঁছেছে মামা-ভাগ্নের লাশ

আপডেট সময় : ১১:৩০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ইশানবালা খালে নোঙর করা এমভি আল-বাখেরা নামের সারবাহী জাহাজে সাতজন নিহতের মধ্যে গোলাম কিবরিয়া (৬৫) ও সবুজ শেখের (২৬) লাশ নিয়ে চাঁদপুর থেকে ফরিদপুরের বাড়িতে এসে পৌঁছে ছে মামা-ভাগ্নের লাশ। সম্পর্কে তারা মামা- ভাগ্নে।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চাঁদপুর থেকে দুইজনের লাশ এ্যাম্বুলেন্সে করে রওনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহত সবুজের ভাই মিজানুর রহমান।

জানা গেছে, নিহত গোলাম কিবরিয়া (৬৫) জাহাজটির মাস্টার ছিলেন এবং সবুজ শেখ (২৬) লস্কর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারা ফরিদপুর সদরের গেরদা ইউনিয়নের জোয়ারের মোড় এলাকার বাসিন্দা। গোলাম কিবরিয়া সদরের জোয়ারের মোড়ের মৃত আনিসুর রহমানের ছেলে। এ জেলার নিহত অপরজন সবুজ শেখ গোলাম কিবরিয়ার ভাগ্নে। গোলাম কিবরিয়া এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা এবং সবুজ ছয় ভাই ও চার বোনের মধ্যে চতুর্থ অবিবাহিত ছিল। মামা-ভাগ্নের নিহতের খবর বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সবুজের মা রাজিয়া বেগম বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছে।

নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত এক মাস আগে গোলাম কিবরিয়া ও সবুজ শেখ বাড়ি থেকে কাজের সন্ধানে বের হন। সোমবার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা এ মৃত্যুর ঘটনা জানতে পারেন। সোমবারই কিবরিয়ার জাহাজে শেষ কর্মদিবস ছিল বলে স্বজনরা জানান।

নিহত সবুজ শেখের বড় ভাই মিজানুর রহমান ওরফে ফারুক জানান, এক মাস আগে মামা কিবরিয়ার সঙ্গে জাহাজের কাজে যোগ দিয়েছিলেন আমার ভাই সবুজ। হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। লাশ সনাক্তের পর মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে লাশবাহী গাড়ী আমাদের বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা দিয়েছে। সাথে আমার দুই ভাই, এক মামাসহ ৭জন সদস্য রয়েছে। আজ রাতেই (মঙ্গলবার) স্থানীয় গফুর মাতব্বরের গোরস্থানে নিহত মামা-ভাগ্নের লাশ দাফন করা হবে। তাদের কবর খুঁড়ার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তিনি আরো জানান।

জানা যায়, জাহাজটিতে থাকা ৮জনের মধ্যে ৭জনের লাশ সনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে এদের মধ্যে বেঁচে যাওয়া জুয়েল রানার (৩৫) বাড়িও ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাদদিয়া ইউনিয়নের বকেরটিলা গ্রামে। জুয়েল চার বছর ধরে ওই জাহাজে কাজ করছিলেন। তিনি বকেরটিলা গ্রামের সেকেন্দার খালাসির ছেলে। আহত জুয়েল রানাকে সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে নাক, কান ও গলা বিভাগে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। জুয়েল রানার শ্বাসনালী কেটে যাওয়ায় সেখানে টিউব যুক্ত করা হলেও তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। তিনি কোন কথা বলতে পারছেন না