রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক সাফল্য: মিয়ানমার রাজি ১.৮ লাখকে ফিরিয়ে নিতে
- আপডেট সময় : ১২:০৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
- / 206
মিয়ানমার ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে ফেরত নিতে উপযুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এটি বাংলাদেশের কূটনীতির এক অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ আট বছর ধরে বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে থাকা রোহিঙ্গা ইস্যুতে এবার মিলছে অগ্রগতির স্পষ্ট ইঙ্গিত।
কৌশলী কূটনৈতিক অবস্থান
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে রাজি করানোর পেছনে বাংলাদেশের একগুচ্ছ কৌশলী অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার এক ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন।
তিনি লেখেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধান উপদেষ্টার হাই-রিপ্রেজেনটেটিভ ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় অবস্থান ও সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই দশকের অভিজ্ঞতা
আজাদ মজুমদার তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘‘রয়টার্স, ইএফই এবং ওয়াশিংটন পোস্টের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আমি (ড. খলিলুর রহমান) প্রায় দুই দশক ধরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রতিটি কোণে গিয়েছি, বিশেষ করে ২০১৭ সালের গণহত্যার পর তাদের দুর্দশা নিয়ে অসংখ্য প্রতিবেদন করেছি।’’
তিনি আরও লেখেন, ‘‘আমি কখনো ভাবিনি যে সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আমি এত কাছাকাছি থেকে প্রত্যক্ষ করতে পারব, যা অবশেষে রোহিঙ্গাদের বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যাবাসনের পথ খুলে দেবে।’’
ব্যাংককে বৈঠকের কৌশল ও সফলতা
আজাদ মজুমদার তার পোস্টে আরও জানান, ‘‘গতকাল ব্যাংককে, বাংলাদেশ প্রথমে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে অস্বীকৃতি জানায়। কারণ, তাদের নেতা বিআইএমএসইসি ভাষণে রোহিঙ্গাদের ‘অবৈধ বাঙালি’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। পরে মিয়ানমার ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হওয়ার পরেই সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।’’
ড. খলিলুর রহমানের প্রশংসা
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ড. খলিলুর রহমানের অবদানকে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন আজাদ মজুমদার। তিনি লেখেন, ‘‘উচ্চ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান যেভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন, তা দেখে আমি অভিভূত। তাঁকে অভিবাদন।’’

























