টানা ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আউটডোরের সেবা বন্ধ থাকলেও, জরুরি বিভাগ ছিল খোলা। এই সময়ে ফরিদপুর জেলা সদরের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে দুটি শিশুর জন্ম হয়েছে। এছাড়াও, বিনামূল্যে আলট্রাসনোগ্রাফি সেবা নিয়েছেন ১০ জন এবং গর্ভকালীন সেবাসহ বিভিন্ন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন প্রায় অর্ধশত সেবাগ্রহীতা। তাদের জরুরি সেবা প্রদানে ঈদের ছুটিতেও নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন ডাক্তার, সনোলজিস্ট, নার্স ও ধাত্রীসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা।
দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে যেখানে নরমাল ডেলিভারির তুলনায় সিজারিয়ান অপারেশনের হার বেশি দেখা যায়, সেখানে ফরিদপুরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এর ব্যতিক্রম চিত্র পরিলক্ষিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে প্রতি মাসে গড়ে ১০ থেকে ১২টি সিজারিয়ান অপারেশন এবং ২৫ থেকে ৩০টি স্বাভাবিক প্রসব হয়ে থাকে। পাশাপাশি, প্রতি মাসে প্রায় ১৭০ থেকে ২০০ জন বিনামূল্যে আলট্রাসনোগ্রাফি সেবা গ্রহণ করেন।
ফরিদপুর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোঃ কামরুল হাসান জানান, ঈদের এই দীর্ঘ ছুটিতে সাধারণ রোগীদের তেমন ভিড় না থাকলেও, গর্ভবতী মায়েদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি সেবা না পেলে তাদের এবং তাদের অনাগত সন্তানের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফরিদপুর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক কাজী ফারুক আহমেদ এবং সহকারী পরিচালক (সিসি) ডা. আবদুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সপ্তাহের সাত দিন এবং চব্বিশ ঘণ্টা জরুরি সেবা ঈদের ছুটিতেও অব্যাহত ছিল। কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. আরিফুন নাহার আশা ও ডা. ফাতেমা আকবরসহ দুজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, একজন ধাত্রী নার্স এবং একজন সহকারী নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট জরুরি পরিস্থিতিতেও ছুটি বাতিল করে সেবা প্রদান করেছেন।
তিনি আরও জানান, ঈদের এই সময়কালে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দুটি শিশুর স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। এছাড়াও, গর্ভকালীন সেবা নিয়েছেন ১০ জন, প্রসবোত্তর সেবা ৪ জন, বিনামূল্যে আলট্রাসনোগ্রাফি সেবা গ্রহণ করেছেন ১০ জন, আইইউডি সেবা নিয়েছেন ১ জন, ইনজেকশন নিয়েছেন ৫ জন, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি (সুখী) নিয়েছেন ৫ জন, কনডম নিয়েছেন ৮ জন, কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন ৪ জন এবং আরটিআই (এসটিআই) সেবা গ্রহণ করেছেন ৫ জন।