ফরিদপুরে বালুমহাল নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৩
- আপডেট সময় : ০৫:৪২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫
- / 585
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নে গড়াই নদীর লংকারচর বালুমহালের ইজারা সংক্রান্ত টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। বুধবার রাতে উপজেলার আঁধারকোঠা গ্রামে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ১০টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল যুবক আক্রমণ চালায়। এ সময় মা ফার্মেসিতে আশ্রয় নেওয়া রাসেল আহমেদের ছোট ভাই ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা রবিন মোল্যার মাথায় আঘাত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হন রিয়াজ মৃধা। স্থানীয়রা দুজনকেই উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। রিয়াজ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও রবিন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
বোয়ালমারী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দেনাপাওনার জেরে সংঘর্ষ, একাধিক পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
বিএনপি নেতা মিরাজ মৃধা জানান, রাসেল আহমেদের সঙ্গে জুয়েল বিশ্বাসের দেনাপাওনা নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে জুয়েল তাদের ফার্মেসিতে আসে। কথা বলার সময় তার কোমরে ধারাল অস্ত্র দেখে লোকজন তা কেড়ে নেয়। পরে সে ২৫-৩০ জনকে সঙ্গে নিয়ে ফার্মেসিতে হামলা চালায়।
অন্যদিকে জুয়েল বিশ্বাস বলেন, তার ৪৫ হাজার টাকা পাওনার বিষয় নিয়ে রাসেল তাকে ফার্মেসিতে ডেকে নেয় এবং টালবাহানা করে মারধর করে। পরে তার গ্রামের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় রবিন মোল্যা আহত হন বলে তিনি জানান।
বিতর্কিতভাবে ইজারা পাওয়া নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
জেলা প্রশাসনের ৬ ফেব্রুয়ারির বিজ্ঞপ্তিতে বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গার তিনটি বালুমহালের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঘোষপুরের লংকারচর মহালের আয়তন ৭৪,১৪৭ একর এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১ কোটি ২০ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৮ টাকা। মাত্র একটি সিডিউল জমা পড়ে, যা জমা দেন যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলাম, মেসার্স রবিউল ট্রেডার্সের মালিক। তিনি ৩৬ লাখ টাকা বেশি দিয়ে ইজারা লাভ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯টি সিডিউল বিক্রি হলেও বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতার মাধ্যমে একটি মাত্র সিডিউল জমা দিয়ে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়। বাকি সিডিউলধারীদের কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা করে ভাগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেই ভাগাভাগির টাকার হিসাব নিয়েই শুরু হয় বিরোধ।
সালিশ বৈঠকে অস্ত্রধারীর উপস্থিতি, সংঘর্ষে রূপ নেয় বৈঠক
বুধবার রাতে সালিশ বৈঠকে রাসেল আহমেদ, মিরাজ মৃধা, মহসিন আলম চানসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উপস্থিত জামায়াতকর্মী জুয়েল বিশ্বাসের কোমরে অস্ত্র দেখে লোকজন তা কেড়ে নিতে গেলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। কিছু সময় পর সে আরও ২৫-৩০ জন নিয়ে হামলা চালায়। এতে রবিন ও রিয়াজ আহত হন।
পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে জটিলতা বাড়ছে
জুয়েল বিশ্বাস দাবি করেন, চাঁদার টাকা চাইতে গেলে তাকে ফাঁদে ফেলে মারধর করা হয়। অন্যদিকে রাসেল আহমেদ বলেন, জুয়েল তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে এবং পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র নিয়ে এসে হামলা চালায়।
ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



















