‘ওসির চোখে খেলনা, র্যাব বলল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তাজা গ্রেনেড!’
- আপডেট সময় : ০৯:৩৯:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 102
পুকুরের ঠাণ্ডা জলে শরীর ভেজাতে গিয়ে আচমকা পায়ের নিচে ভারী ধাতব বস্তুর ছোঁয়া! সন্দেহ হওয়ায় পানি থেকে তুলে আনা পলিথিনে মোড়ানো সেই বস্তুই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল এক তাজা মরণাস্ত্র। নীলফামারীর সৈয়দপুরে পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়া এক গ্রেনেডকে ঘিরে এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্বাসকান্দর ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। উদ্ধার হওয়া ধাতব অংশটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এক সক্রিয় গ্রেনেড বলেই প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।
পুলিশের উড়িয়ে দেওয়া জল্পনা, র্যাবের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ডাঙ্গাপাড়া এলাকার আশির উদ্দিন শাহর পুকুরে গোসল করতে যান দুই স্থানীয় যুবক—তানভির ও আনসারুল। ডুব দেওয়ার সময় তানভিরের পায়ে এক ভারী বস্তু ঠেকে। পানির নিচ থেকে বস্তুটি তুলে পুকুরপাড়ে এনে পরীক্ষা করতেই সন্দেহ জাগে তাঁদের। তড়িঘড়ি পলিথিনে মুড়িয়ে সৈয়দপুর থানায় খবর দেন গ্রামবাসীরা।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈয়দপুর থানার পুলিশ খবর পেয়েও সেটিকে সাধারণ ‘খেলনা’ আখ্যা দিয়ে বিন্দুমাত্র আমল দেয়নি। এতে ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে সরাসরি যোগাযোগ করেন র্যাব-১৩-এর সঙ্গে।
খবর পাওয়া মাত্রই শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে র্যাব-১৩, নীলফামারী সিপিসি-২-এর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাতব বস্তুটি উদ্ধার করে। পরীক্ষা চালিয়ে র্যাব কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, অবহেলায় ফেলে রাখা বস্তুটি সাধারণ কোনো খেলনা নয়, এটি একটি সক্রিয় ও অত্যন্ত বিপজ্জনক গ্রেনেড!
রংপুর থেকে বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড, নিষ্ক্রিয়করণ অভিযান
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে র্যাব। তড়িঘড়ি রংপুর থেকে ডেকে পাঠানো হয় র্যাবের বিশেষ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। সার্জেন্ট আব্দুল বারীর নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানটি ঘিরে ফেলে এবং গ্রেনেডটি নিষ্ক্রিয় করার ঝুঁকিপূর্ণ কাজ শুরু করে।
অভিযানের তদারকি করেন নীলফামারী র্যাবের স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি এটিএম তৌহিদুল ইসলাম এবং কোম্পানি কমান্ডার আশরাফুল কবির।
এদিকে, উদ্ধারকৃত মরণাস্ত্রকে ‘খেলনা’ বলে অবহেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।











