আ.লীগের নতুন পরিকল্পনা ফাঁস!
- আপডেট সময় : ০৩:১১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
- / 449
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তাঁর শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা দেশ থেকে পালানোর পরও বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছেন বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বর্তমান লক্ষ্য—দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। অভিযোগ মতে, তাঁরা ২ লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ জাল নোট দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই বিশাল অঙ্কের জাল নোট তৈরির অপকর্মে পার্শ্ববর্তী দেশের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা মদদ দিচ্ছে।
কাতারভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খানের এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য সামনে আসে। এটি ভাইরাল হওয়ার পর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই অপতৎপরতা রুখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
ষড়যন্ত্রের গভীরতা: টাঁকশাল ও বিদেশি গোয়েন্দার যোগসাজশ
অভিযোগ অনুযায়ী, এই ষড়যন্ত্রে জাল নোট তৈরির প্রক্রিয়া এবং নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে অবিশ্বাস্য নিখুঁত কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।
নিখুঁত জাল: জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী দেশের নিজস্ব মুদ্রা ছাপানোর ফ্যাসিলিটিতে বিশেষ ব্যবস্থায় এই জাল নোটগুলো প্রিন্ট করা হয়েছে। জাল নোটের কাগজ বাংলাদেশের আসল নোটের কাগজের মতো একই হওয়ায় এবং নিরাপত্তা সুতাসহ হলোগ্রাম প্রিন্ট নিখুঁতভাবে ব্যবহার করায়, খালি চোখে বা ব্যাংকের যাচাই মেশিনেও এগুলো চিহ্নিত করা কঠিন।
টাঁকশালের সংযোগ: সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বাংলাদেশের টাঁকশালে ব্যবহৃত মেশিন ও যন্ত্রাংশ এই কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এছাড়া, টাঁকশালে টাকা তৈরির সাবেক ডিজাইনারসহ আওয়ামী কারিগররা গোয়েন্দাদের তত্ত্বাবধানে লম্বা সময় নিয়ে এই জাল টাকা ছাপানোর কাজে জড়িত থাকতে পারেন।
বিতরণ চক্র: জাল নোট তৈরি এবং দেশে পাঠানো চক্রে ওই দেশের গোয়েন্দাদের সঙ্গে ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগের কিছু নেতা সরাসরি জড়িত। তারা ডিলার থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত একটি নতুন চেইন তৈরি করেছে, যেখানে সবাই তাঁদের আদর্শের লোক।
অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা
এই বিপুল পরিমাণ জাল নোটের প্রবাহ দেশের অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্বেগ: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই অভিযোগকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের খুব বেশি কিছু করার নেই, তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে হবে।
অর্থনীতির প্রভাব: অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাপকভাবে জাল টাকার প্রবাহ মুদ্রাস্ফীতি তৈরি করতে পারে এবং নগদ অর্থের প্রতি জনগণের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।
সচেতনতা: নির্বাচন উপলক্ষ্যে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়ায় জাল নোট ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ায়, বাংলাদেশ ব্যাংক সঠিক টাকা চেনার নমুনা সংবলিত পোস্টার ও গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে।
সামাজিক মাধ্যমে রমরমা কারবার
জাল নোট চক্রের সদস্যরা ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ‘সিক্রেট গ্রুপ’ তৈরি করে প্রকাশ্যে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।
বিক্রির কৌশল: ১ লাখ টাকার জাল নোট মাত্র ১০ থেকে ১৮ হাজার টাকায় বিক্রির অফার দেওয়া হচ্ছে। তারা ‘মানি ব্যাক গ্যারান্টি’, ‘উচ্চমানের রেপ্লিকা’ এবং ‘এ-গ্রেডের মাল’ এর মতো মিথ্যা প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে।
প্রশাসনের তৎপরতা: ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাল নোট কারবারিদের বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ শতাধিক অনলাইন পেজ ও গ্রুপ শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।





















