চেম্বারে বসেই ইয়াবার আসর! ডাক্তার গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০১:১২:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- / 163
রোগী দেখার আড়ালে খোদ হাসপাতালের নিজস্ব কক্ষে চলত মাদকের আড্ডা! সাদা কোট পরা চিকিৎসকের চেম্বারটিই যেন পরিণত হয়েছিল বিষাক্ত ইয়াবার আস্তানায়। অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ৪ পিস ইয়াবা ও সেবনের সরঞ্জামসহ হাতেনাতে শ্রীঘরে ঠাঁই হলো এক বিতর্কিত চিকিৎসকের।
রোববার (৯ আগস্ট) রাতে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বেসরকারি ‘সিটি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ অভিযান চালিয়ে ডা. সৈয়দ আসিফ ইস্পাহানী নামের ওই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। খবরের চাঞ্চল্যকর আদ্যোপান্ত নিচে তুলে ধরা হলো:
ডাক্তার চেম্বারে ইয়াবার সরঞ্জাম, তল্লাশিতে ধরা
চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে অধিদপ্তরের একটি চটজলদি টিম ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হানা দেয়। এ সময় পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসান, এএসআই মো. তোফায়েল আহমেদ ও বেলায়েত হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চিকিৎসকের ব্যক্তিগত কক্ষে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য। রুম থেকে উদ্ধার করা হয় ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক সেবনের একাধিক সরঞ্জাম। নিয়মিত চেম্বারের দরজা বন্ধ করে মাদক সেবনের তথ্য মেলায় তাঁকে সেখান থেকেই আটক করে আইনি ব্যবস্থার জন্য কচুয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
চিকিৎসকদের ‘ড্রাগ টেস্ট’-এর পরামর্শ, জেলহাজতে অভিযুক্ত
ঘটনার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “উক্ত চিকিৎসক নিয়মিত তাঁর ব্যক্তিগত কক্ষে বসে মাদক সেবন করতেন বলে আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাই। জীবনরক্ষাকারী একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন আশঙ্কাজনক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
একই সাথে তিনি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল মালিকদের সতর্ক করে দিয়ে যেকোনো চিকিৎসক নিয়োগের আগে বাধ্যতামূলক ‘ড্রাগ টেস্ট’ করানোর পরামর্শ দেন। এ ঘটনায় ডা. সৈয়দ আসিফ ইস্পাহানির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ভুয়া অ্যানেস্থেসিয়া ও যৌন হয়রানির ডজন খানেক অভিযোগ
ইয়াবাসহ হাতেনাতে ধরা পড়ার পর ওই চিকিৎসকের অন্ধকার অতীতের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোনো ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই রোগীদের ওপর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অ্যানেস্থেসিয়া (অজ্ঞান করার ওষুধ) প্রয়োগ করতেন তিনি।
শুধু চিকিৎসা সংক্রান্ত অনিয়মই নয়, ডা. সৈয়দ আসিফ ইস্পাহানির বিরুদ্ধে পূর্বে যৌন হয়রানি, ইভটিজিং ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।















